বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের লোগো। সংগৃহীত

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীর জনসভায় পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের মধ্যে আঁতাত এবং অর্থ সরবরাহের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য থাকার যে দাবি করেছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধু জনসভায় বক্তব্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Advertisement

বুধবার (২১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী সত্য ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এ বক্তব্য দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে দেশবাসীর সামনে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সত্য হলে প্রশ্ন হলো, গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন? আর বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি না থাকলে এমন স্পর্শকাতর অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা কেন? প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি করেন দলটির মহাসচিব।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, গণভোটের রায় অমান্য করে এবং চব্বিশ-পরবর্তী জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার নিজেরাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করছে। 

তিনি বলেন, একদিকে পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কা তুলে ধরা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ উপেক্ষা করা হচ্ছে। নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের দায় আড়াল করতে আঁতাতের অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সৎ রাজনীতি নয়।

তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে স্বৈরতন্ত্রের সাথে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ করতে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি। অথচ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের পরিবর্তে সরকার জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করছে। এই দ্বিমুখী অবস্থানের জবাব সরকারকে দিতে হবে।