তুরস্কে সাদেত পার্টির কেন্দ্রীয় শূরার শিক্ষা কর্মশালায় ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ
তুরস্কে সাদেত পার্টির কেন্দ্রীয় শূরার শিক্ষা কর্মশালায় ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। নয়া দিগন্ত

তুরস্ক ও বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের ভাষা বা সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

Advertisement

তিনি বলেছেন, ‘দুই দেশের ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস ভিন্ন হতে পারে, সংস্কৃতি ভিন্ন হতে পারে, ভাষা ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু আমাদের সংগ্রাম একই, আমরা একই পথের পথিক। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহর জমিনে ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।’

শনিবার তুরস্কের রাজধানী আংকারায় সাদেত পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় শূরার শিক্ষা কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

হামিদুর রহমান আযাদ বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতা-কর্মীদের ত্যাগ ও কোরবানি, মানবসেবা, ইসলামী দাওয়াহ এবং দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবতার মুক্তির জন্য দক্ষতার সাথে নৈতিকতার সমন্বয় ঘটানোর ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ইসলামী আন্দোলনের উদ্দেশ্য কেবল সাংগঠনিক বিস্তার নয়; বরং মানুষের জীবনে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্য অর্জনে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন’ (সূরা আন-নাহল, আয়াত ৯০)। এই নির্দেশনার আলোকে ন্যায় ও ইনসাফকে মানবিক সমাজ এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতা-কর্মীদের ত্যাগ ও কোরবানির কথা উল্লেখ করেন। আদর্শের প্রতি অবিচল থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত অবস্থান গ্রহণ এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করাকে তিনি আদর্শিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেন।

বিশ্বশান্তি ও মানবতার মুক্তির প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘শুধু দক্ষতা মানুষকে কর্মক্ষম করে, কিন্তু নৈতিকতা তাকে সঠিক পথ দেখায়। দক্ষতার সাথে নৈতিকতার সমন্বয় না ঘটলে জ্ঞান ও প্রযুক্তি মানবকল্যাণের পরিবর্তে ধ্বংসের কারণ হতে পারে।’

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা প্রয়োজন, যারা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতায় পারদর্শী হওয়ার পাশাপাশি সততা, সহমর্মিতা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হবে। দক্ষতার সাথে বিবেক ও দায়িত্ববোধের সমন্বয় ঘটলেই অর্জিত জ্ঞান মানবকল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

এ লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা, তরুণদের প্রযুক্তিগত ও ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একইসাথে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে দারিদ্র্য বিমোচন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মানবসেবাকে ইসলামী আদর্শের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইসলামী দাওয়াহর মাধ্যমে মানুষের চিন্তা ও চরিত্রের উন্নয়ন এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন, দায়িত্বশীল জনশক্তি গড়ে তোলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

কর্মশালার পাশাপাশি সাদেত পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. মুসা ওজতুর্কের সাথে সাক্ষাৎ করেন ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তুরস্কের মিলি গোরুশ আন্দোলনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরো জোরদার করা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা, নেতৃত্ব উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সাদেত পার্টির শিক্ষা কর্মশালায় অংশগ্রহণ এবং দলটির ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে দুই দেশের ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং শিক্ষা ও নেতৃত্ব উন্নয়নে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।