
বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেয়ার ক্ষোভ থেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো: আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, একজন সিনিয়র নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে মেজর (অব.) মো: আখতারুজ্জামান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে কথা বলতে পারেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানাতে পারেন। কিন্তু বিমানবন্দরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, রিমান্ডের আদেশ বাতিল এবং তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। বিমানবন্দরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আপনার বাবা-মা জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে যেসব কথা বলেননি; জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলার আগে নিজের এবং নিজেদের চেহারা আয়না দেখতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ঘোষিত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতারা লুকিয়ে থাকলেও জামায়াত-শিবির রাজপথে জীবন দিয়েছিল। রাজপথের কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাদের পাওয়া যেতো না। অনেকে মোবাইল পর্যন্ত বন্ধ রাখতো। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকার প্রধানসহ তার মন্ত্রীদের কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে গুপ্ত বলছে, স্বাধীনতা বিরোধী বলছে।
তিনি বলেন, যাদের সাথে আপনার মা (বেগম খালেদা জিয়া) জোট করেছিল, যাদের সমর্থনে আপনার মা সরকার গঠন করেছিল তাদেরকে গুপ্ত আর স্বাধীনতা বিরোধী বলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।
জামায়াতকে স্বাধীনতা বিরোধী আর গুপ্ত বলার আগে বিএনপিকে আয়নায় নিজের চেহারা দেখতে আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতের নয় বরং সরকারের তলে-তলে যোগাযোগ ও সখ্য রয়েছে বলেই আওয়ামী লীগ রাজপথে মিছিলের সুযোগ পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পলাতক আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গঠনে সরকার উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল সহযোগিতা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারছে না। সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে না পারে—মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার মাধ্যমে সরকার এমন একটি বার্তা দিতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতকে নিয়ে অপরাজনীতি করতে গিয়ে অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিণতি হয়েছে। নতুন করে কেউ জামায়াতকে নিয়ে অপরাজনীতির চেষ্টা করলে তার পরিণতি আরো কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের হাতে হাতকড়া পরিয়ে এদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে হাতকড়া পরিয়েছে, আখতারুজ্জামানকে রিমান্ডে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করেছে।
তিনি আরো বলেন, হাতকড়া পরানোর কথা ছিল বিএনপি নেত্রী মিষ্টিকে, রিমান্ডে নেয়ার কথা ছিল মিষ্টি ও তার অনুসারী দখলবাজ সন্ত্রাসীদের। যারা চাঁদাবাজি করছে, দখলবাজি করছে তাদেরকে গ্রেফতার না করে অন্যায়, অনিয়ম ও অব্যবস্থপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে! বিএনপি সরকারের রাগ হচ্ছে আখতারুজ্জামান কেন বিএনপি ছেড়ে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছে।
দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি বলেন, জাতীয় সংসদের ৩৪ জন এমপি বিমানবন্দরে এলেও বিমান কর্তৃপক্ষ সংসদ সদস্যদের কোনো প্রটোকল দেয়নি। বরং হয়রানি করেছে। তিনি আরো বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কেবলমাত্র প্রবাসীদের হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন তিনি কোনো অপরাধ সংগঠিত করেননি। যার সাক্ষী আমি নিজে। বিমানমন্ত্রীর বক্তব্য অসত্য এবং বাস্তবতার পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি বিমানমন্ত্রীকে অসত্য বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
ডাকসু ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, সরকারের দায়িত্ব ছিল মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানির ঘটনা সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে বিমানবন্দরের সমস্যা সমাধান এবং প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তিনি।
এসময় সমাবেশটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম। এতে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ড. মোবারক হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশ শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, প্রেসক্লাব হয়ে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








