
দক্ষিণ অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। শনিবার এই অভিযানের সময় বহু ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু (২৪ অক্টোবর) জানায়, হেবরনের কেন্দ্রস্থ আল-জিলদা এবং দেইর বাহহা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুরো এলাকাটিকে ইসরাইলি বাহিনী অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা 'ওয়াফা'র তথ্যমতে, শনিবার খুব ভোরে ইসরাইলি সেনারা ডজন ডজন বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে বের করে খোলা জায়গায় দাঁড় করিয়ে রাখে।
শহরজুড়ে সামরিক নিয়ন্ত্রণ
এই অভিযানের অংশ হিসেবে শহরে অতিরিক্ত সামরিক যান ও বুলডোজার মোতায়েন করা হয়েছে। হেবরনের প্রধান প্রবেশপথ ও সংযোগ সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে আশেপাশের এলাকা থেকে শহরটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে অনেক বাসিন্দাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এদের মধ্যে কিছু কিছু ব্যক্তিকে শনিবার সকালে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
পশ্চিম তীরে ব্যাপক গ্রেফতার
হেবরন ছাড়াও অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বেথলেহেমের হিনদাজা এলাকা ও আল-আজা শরণার্থী শিবিরের দুজন, নাবলুস এলাকার ১৬ জন এবং জেরিকোর আকাবাত জাবর শরণার্থী শিবিরের এক যুবক রয়েছেন।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতা
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পূর্ব জেরুসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সামরিক হামলা ও সহিংসতা ব্যাপক বেড়েছে। এই সময়ে বহু ফিলিস্তিনি নিহত ও গ্রেফতার হয়েছেন। এছাড়া ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস, মসজিদ ও যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া এবং কৃষিজমি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কৃষকদের জমিতে ঢুকতে বাধা দেওয়া, ফিলিস্তিনি জনবসতি উচ্ছেদ এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মতো ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।
শুক্রবার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, গোলাগুলিতে দুজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওই ফিলিস্তিনিরা হেবরনে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে আহত করে। এই ঘটনার পর শুক্রবার থেকেই হেবরন এবং এর আশেপাশের কয়েকটি শহর পুরোপুরি অবরোধ করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








