
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আলোচনা চলার মধ্যেই পিট হেগসেথের এ সফর।
ইয়েনেট মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জানায়, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার আগাম ঘোষণা ছাড়াই ইসরাইল সফর করেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠক করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস সোমবার রাতে এ খবর প্রকাশ করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, হেগসেথের এ সফরের কথা আগে থেকে ঘোষণা করা হয়নি।
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের মাত্র আট দিন আগে হেগসেথের এ সফর অনুষ্ঠিত হলো। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবারো শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
সফর সম্পর্কে পেন্টাগন ও ওয়াশিংটনে ইসরাইলি দূতাবাস কোনো মন্তব্য করেনি। নেতানিয়াহুর দফতর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হেগসেথ ও নেতানিয়াহুর বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে কি না, তা-ও জানা যায়নি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে আবারো সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। গত সপ্তাহে অ্যাক্সিওস জানায়, ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন এবং তার এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে আরেকটি যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দফা কথা বলেছেন।
ইসরাইলি গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানান, ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ নিয়ে দুই নেতা ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও সামরিক স্থাপনায় সম্ভাব্য যৌথ হামলার বিষয়েও আলোচনা করেন। তবে এমন অভিযানের অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো সম্মতি দেননি। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে প্রস্তুতি নিতে উৎসাহিত করেছেন। তবে তার অর্থ এই নয় যে, তিনি হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অ্যাক্সিওসের ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইরানে নতুন করে হামলার পক্ষে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন হেগসেথ ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তবে ট্রাম্পের অধিকাংশ উপদেষ্টা আপাতত বড় ধরনের সামরিক হামলার বদলে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে।
প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, প্রথম দিকে ইসরাইলের প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানাতে আগ্রহী থাকলেও পরে ট্রাম্পের অবস্থানে কিছুটা দ্বিধা দেখা দেয়। তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে যুদ্ধ আবার শুরু করা নিয়ে আলোচনার খবর অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না বলে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন।
চলতি মাসের শুরুতে পেন্টাগন সেন্টকমকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরুর সম্ভাব্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয় বলেও খবর প্রকাশিত হয়। তবে ওই নির্দেশে হামলার কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা ইসরাইলের নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে ইসরাইলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সাথে কথা বলেন। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আবারো বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়।
জামির বলেন, এমন অভিযান শুরু হলে ইসরাইলের নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হতে পারে। কারণ, ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








