জাতিসঙ্ঘের লোগো
জাতিসঙ্ঘের লোগো। সংগৃহীত ছবি

জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাত প্রার্থীর প্রত্যেকেই নিরাপত্তা পরিষদের কমপক্ষে একজন স্থায়ী সদস্যের কাছ থেকে ‘অনুৎসাহিত’ ভোট পেয়েছেন। কার্যত এটি ভেটোর সমতুল্য। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সর্বশেষ অনানুষ্ঠানিক ভোটের এ তথ্য জানিয়েছেন একজন কূটনীতিক।

Advertisement

শুক্রবারের ভোটে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ভেটো বোঝাতে রঙিন কাঠি ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত ১০ সদস্য আগের মতোই সাধারণ কাঠি ব্যবহার করেছেন। এ ভোটে সদস্যদের পরিচয় গোপন রাখা হয়।

কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান আগের পাঁচ দফা ভোটেও এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন। এবারো তিনি সবচেয়ে বেশি ‘সমর্থন’ ভোট পেয়েছেন। তবে তিনি পাঁচটি ‘অনুৎসাহিত’ ভোটও পেয়েছেন, যার মধ্যে দু’টি এসেছে স্থায়ী সদস্যদের কাছ থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাত প্রার্থীর কাউকেই সমর্থন করছে না ওয়াশিংটন।

জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ এ প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে শুক্রবার তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বলে আসছি, আমাদের শুধু সেরা প্রার্থীটিকেই প্রয়োজন।’

নতুন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যোগ দিতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াল্টজ বলেন, ‘কোনো দেশ আরো প্রার্থী দিতে চাইলে, তা অবশ্যই তাদের সার্বভৌম অধিকার।’

কূটনীতিকদের বিবেচনায় সম্ভাব্য নতুন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে গাজার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লানা নুসেইবেহ।

তুরস্কের ফেরিদুন হাদি সিনিরলিওগলুর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তিনি ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) মহাসচিব।

অনানুষ্ঠানিক ভোটের প্রথম পাঁচ দফায় গড় হিসেবে সবচেয়ে ভালো করেছিলেন গ্রিনস্প্যান। শুক্রবারও তিনি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন, যদিও দু’টি ভেটো পেয়েছেন।

অন্য প্রার্থীরা হলেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বার্কেট, জাতিসঙ্ঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার বর্তমান প্রধান আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের ম্যাকি সাল, ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকি ও মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা এবং উগান্ডার ওলারা ওতুনু।

বিদায়ী মহাসচিব পর্তুগালের অ্যান্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদি দায়িত্বের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।

নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় নয়টি ভোট পেলেও কোনো প্রার্থীকে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো এড়াতে হবে। এই পাঁচ শক্তিধর দেশের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে।

কোনো প্রার্থী এই দুই শর্ত পূরণ করতে পারলে তার নাম চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতিসঙ্ঘের সব সদস্য দেশের সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।

দুই প্রার্থীর নামেই ভেটো পড়ায় সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে নিরাপত্তা পরিষদের এ ধরনের ভোটের পদ্ধতি চালু করা হয়।

প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয়—এমন সমালোচনা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপে এই অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি চালু রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যকে প্রতিটি প্রার্থীর বিষয়ে গোপন ব্যালটে তিনটির মধ্যে একটি মত দিতে হয়—‘সমর্থন’, ‘অনুৎসাহিত’ অথবা ‘কোনো মতামত নেই’।

জাতিসঙ্ঘের শীর্ষ পদটি পালাক্রমে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রার্থীদের দেয়ার রীতি রয়েছে। সেই রীতি অনুসারে, এবার পদটি ল্যাটিন আমেরিকার কোনো প্রার্থীর পাওয়ার কথা। এ অঞ্চল থেকে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সাল ও ওতুনু আফ্রিকার প্রার্থী।

সূত্র : বাসস