নোবেল পুরস্কার
নোবেল পুরস্কার। সংগৃহীত ছবি

এ বছর নোবেল সাহিত্য পুরস্কার কোনো চীনা বা ক্যারিবীয় নারী লেখকের হাতে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সাহিত্য সমালোচকেরা। ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমা বিশ্বের পুরুষ লেখকদেরই বেশি দেয়া এই পুরস্কারে আরো বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ দেখা যেতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

Advertisement

নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের কোনো প্রকাশ্য সংক্ষিপ্ত তালিকা নেই। পুরস্কার প্রদানকারী সুইডিশ অ্যাকাডেমির আলোচনা এবং মনোনীত লেখকদের তালিকা ৫০ বছর গোপন রাখা হয়। ফলে পুরস্কার ঘোষণার আগে স্টকহোমের সাহিত্যাঙ্গনে সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে জোর আলোচনা ও নানা জল্পনা শুরু হয়।

এই জল্পনার অবসান হবে বৃহস্পতিবার। সেদিন স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় (গ্রিনিচ মান সময় বেলা ১১টা) ১৮ সদস্যের সুইডিশ অ্যাকাডেমি এবারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে।

ক্যারিবীয় সংস্কৃতি, পরিবার, পরিচয়, ঔপনিবেশিকতা ও বর্ণবৈষম্য নিয়ে লেখার জন্য পরিচিত অ্যান্টিগুয়া-আমেরিকান লেখক জ্যামাইকা কিনকেইড (৭৭) দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

চীনের লেখক কান শুয়েকেও সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার পরীক্ষাধর্মী ও প্রচলিত ধারার বাইরে লেখা অনেকটা ফ্রানৎস কাফকার লেখার সাথে তুলনা করা হয়।

সুইডেনের দৈনিক এক্সপ্রেসেন-এর সংস্কৃতিবিষয়ক সমালোচক ভিক্টর মালম বলেন, ‘জ্যামাইকা কিনকেইডের এবার পুরস্কার পাওয়ার সময় এসেছে।’

সুইডেনের সবচেয়ে বড় দৈনিক ডাগেনস নিহেটার-এর সংস্কৃতি সম্পাদক বিওর্ন উইমানও বলেন, কিনকেইডের নাম দীর্ঘদিন ধরে নোবেল পুরস্কারের আলোচনায় রয়েছে।

গত বছর নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।

নোবেলে নারীরা এখনো পিছিয়ে
কিনকেইডের ১৯৯০ সালের উপন্যাস ‘লুসি’ একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা তরুণীর আত্মজীবনীমূলক গল্প। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আয়া হিসেবে কাজ করতে শুরু করা ওই তরুণীর জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গল্পটি এগিয়েছে।

উইমান বলেন, ‘এটি ঠিক সেই ধরনের বই, যার মাত্র তিন লাইন পড়লেই মনে হয়—হ্যাঁ, এখানে একজন নোবেলজয়ী লেখকের কথা বলা হচ্ছে।’

তবে কিনকেইডকে পুরস্কার দেয়া হলে সেটিকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবেও কেউ কেউ ব্যাখ্যা করতে পারেন। কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক।

গত বছর ক্রাসনাহোরকাইকে পুরস্কৃত করে সুইডিশ অ্যাকাডেমি আবারো ইউরোপের পুরুষ লেখকদের দীর্ঘ ঐতিহ্যের পথেই হেঁটেছে। উইমান মনে করেন, এ বছর কমিটিকে সেই ধারা থেকে কিছুটা সরে আসা উচিত।

১৯০১ সালে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার চালুর পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের পুরুষ লেখকদের আধিক্য নিয়ে সুইডিশ অ্যাকাডেমি সমালোচিত হয়ে আসছে।

এ পর্যন্ত সাহিত্য নোবেল পাওয়া ১২২ জন বিজয়ীর মধ্যে নারী মাত্র ১৮ জন। এশীয় বা মধ্যপ্রাচ্যের ভাষায় লেখা বিশাল সাহিত্যভাণ্ডার থেকেও খুব অল্পসংখ্যক লেখক স্বীকৃতি পেয়েছেন। আফ্রিকার কোনো ভাষায় লেখা সাহিত্য এখনো এই পুরস্কারের প্রতিনিধিত্ব পায়নি।

২০১৮ সালে যৌন নিপীড়নকে কেন্দ্র করে একটি কেলেঙ্কারির পর সুইডিশ অ্যাকাডেমি বড় ধরনের সঙ্কটে পড়ে। এরপর এর অর্ধেকেরও বেশি সদস্য পরিবর্তন করা হয়।

এরপর থেকে প্রতি দুই বছর পরপর একজন করে নারী লেখক সাহিত্য নোবেল পেয়েছেন। ফলে এবারো কোনো নারী লেখক পুরস্কার পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সুইডিশ অ্যাকাডেমির বক্তব্য, লেখকের লিঙ্গ, অঞ্চল বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়—একজন লেখকের সাহিত্যকর্মের মানই তাদের একমাত্র বিবেচ্য।

সূত্র : বাসস