নোবেল পুরস্কার
নোবেল পুরস্কার। সংগৃহীত ছবি

বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা নোবেল পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে, মনোনীত ব্যক্তিকে অবশ্যই জীবিত হতে হবে। ১৯৭৪ সালে প্রবর্তিত নোবেল ফাউন্ডেশনের সংবিধি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে মরণোত্তর (মৃত্যুর পর) নোবেল পুরস্কার দেয়া যাবে না। 

Advertisement

তবে এই কঠোর নিয়মেরও কিছু নজিরবিহীন ব্যতিক্রম রয়েছে। নোবেল পুরস্কারের ১২৫ বছরের ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মৃত্যুর পরও ব্যক্তি বিশেষকে এই সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে নিয়মটি চূড়ান্তভাবে সংশোধনের আগে একটি বিধান ছিল, যদি কোনো ব্যক্তি একই বছরের ১ ফেব্রুয়ারির আগে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন এবং পুরস্কার ঘোষণার আগে মারা যান, তবে তাকে পুরস্কার দেয়া যাবে। এই নিয়মের অধীনে ইতিহাসে মাত্র দু’জন ব্যক্তি মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

এদের একজন হলেন এরিক অ্যাক্সেল কার্লফেল্ড। সুইডিশ এই কবিকে ১৯৩১ সালে মরণোত্তর নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। অপরজন হলেন জাতিসঙ্ঘের  দ্বিতীয় মহাসচিব এবং সুইডিশ কূটনীতিবিদ দাগ হ্যামারশেল্ড। তিনি ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আফ্রিকায় একটি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। বিশ্ব শান্তিতে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল কমিটি একই বছরের শেষের দিকে তাকে মরণোত্তর নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।

১৯৭৪ সালের সংশোধিত কঠোর নিয়ম মরণোত্তর মনোনয়নের বিতর্ক এড়াতে ১৯৭৪ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন তাদের আইন সংশোধন করে। নতুন নিয়মে বলা হয়, কোনো মৃত ব্যক্তিকে নোবেল পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হবে না। তবে এতে একটি বিশেষ ছাড় রাখা হয়- যদি অক্টোবর মাসে নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণার সময় কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকেন এবং আগামী ডিসেম্বর মাসে মূল পুরস্কার হস্তান্তরের আগে মারা যান, তবে তার পুরস্কার বাতিল হবে না।

২০১১ সালের নজিরবিহীন ব্যতিক্রম 
মরণোত্তর পুরস্কার নিষিদ্ধ হলেও ২০১১ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর কানাডিয়ান ইমিউনোলজিস্ট রালফ স্টাইনম্যানের নাম চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথ নোবেল জয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

তবে নাম ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর নোবেল কমিটি জানতে পারে যে, অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত বিজ্ঞানী রালফ স্টাইনম্যান পুরস্কার ঘোষণার মাত্র তিন দিন আগে ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন। এই আকস্মিক তথ্যে নোবেল কমিটি চরম নাটকীয় ও আইনি মারপ্যাঁচের মুখোমুখি হয়, কারণ মরণোত্তর পুরস্কার দেয়া নিয়মের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল।

পরবর্তীতে নোবেল ফাউন্ডেশনের বোর্ড একটি জরুরি সভায় বসে এবং এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখার ঐতিহাসিক রায় দেয়।

নোবেল কমিটি যুক্তি দেখায়, পুরস্কারটি ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ এবং তার মৃত্যুর খবর না জেনেই ঘোষণা করা হয়েছিল। যেহেতু ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মৃত ব্যক্তিকে মনোনীত করা হয়নি, তাই রালফ স্টাইনম্যানের নোবেল জয়কে বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ১৯৭৪ সালের পর তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি মৃত্যুর পর এই সম্মাননা লাভ করেন।

সূত্র : বাসস