সামরিক সরঞ্জামের সঙ্কট উপস্থাপন ইসরাইলের পুরনো রণকৌশল

 আলজাজিরা
ইরান, গাজা ও লেবাননসহ একাধিক সীমান্তজুড়ে বহুমুখী সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলি সশস্ত্র বাহিনীর ওপর সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার খবর সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক হিব্রু গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাঁজোয়া যান ও ট্যাংকের ঘাটতি, সেনাসদস্যদের ছুটি বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বোয়িং নির্মিত ১২টি অ্যাপাচে আক্রমণের উপযোগী হেলিকপ্টার ক্রয়ের চুক্তি থমকে যাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নেই। বাজেট ঘাটতিকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের সাথে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় প্রতিরক্ষা খাতের বাড়তি অর্থায়ন আটকে রয়েছে।
তবে সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে প্রকৃত সঙ্কটের চেয়ে পশ্চিমা মিত্রদের থেকে দ্রুত অস্ত্র পাওয়ার কৌশল হিসেবে দেখছেন। বার্তা সংস্থা আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ হামজে আত্তার জানান, ইসরাইলি বাহিনীর কাছে এই মুহূর্তে অস্ত্রের ঘাটতি হওয়া অবাস্তব। পশ্চিমা দেশগুলো যেসব অস্ত্রকে যুদ্ধের জন্য যথেষ্ট মনে করে, ইসরাইল সেটিকে সঙ্কটজনক হিসেবে তুলে ধরে। কারণ তারা একাধিক ফ্রন্টে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা নীতি পরিবর্তনের আগেই সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইসরাইল এই কৌশল ব্যবহার করছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে মার্কিন প্রশাসন দেশটিকে দুই হাজার পাউন্ড ওজনের ৬০ হাজার দূরপাল্লার বোমা সরবরাহের তোড়জোড় শুরু করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের হিসাব মতে ইসরাইলি বাহিনীতে এক লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ সক্রিয় সেনার সাথে চার লাখ ৬৫ হাজার রিজার্ভ সেনা বিদ্যমান ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দরুন জনবল বাড়াতে সেনাপ্রধান এজাল জামির পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ ৩৬ মাস করার তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে উগ্র অর্থোডক্স (হারেদি) তরুণদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২৪ হাজার নোটিশের বিপরীতে মাত্র এক হাজার ২০০ জন এতে সাড়া দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের অভিমত, গাজা, লেবানন, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর, সিরিয়া ও ইরানে যুদ্ধ চালানোর মতো পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম তেল আবিবের কাছে এখনো রয়েছে। মূলত ভবিষ্যতে আঞ্চলিক কোনো বড় শক্তির সাথে সম্ভাব্য সঙ্ঘাতের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই তারা এই ঘাটতির তথ্য প্রকাশ্যে আনছে।

Advertisement