
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সরকার চিকিৎসক নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বুধবার রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন’ শীর্ষক গণমুখী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী।
এ ছাড়াও সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফাজিলা-তুন-নেসা মালিক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন, অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী প্রমুখ৷ এতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম মহাসচিব নওশাদ হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরো কাছাকাছি নিয়ে যেতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে। একইসাথে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কিছুটা কমবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকাতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
স্বাস্থ্যখাতকে গুরুত্ব দিয়ে এবার সর্বোচ্চ বাজেট দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে নার্স নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সুস্থ থাকতে হলে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। একইসাথে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হৃদ্রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে আরো সহজলভ্য করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে গুরুত্ব দিতে হবে। হৃদ্রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায় থেকে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, হৃদ্রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: নাজমুল হোসেন বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে শুরু থেকেই ঝুঁকির বিষয়গুলো চিহ্নিত করা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও তামাক ব্যবহারের মতো ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গেলে হৃদরোগের প্রকোপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ জন্য স্বাস্থ্যশিক্ষা ও জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








