
প্যারিসের পরিচিত মঞ্চ ছেড়ে এবার লন্ডনে ব্যালন ডি’অরের আসর। ৭০ বছরের ঐতিহ্যে প্রথমবার ফ্রান্সের বাইরে বসছে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারের আয়োজন। মঞ্চ বদলালেও উত্তেজনার কমতি নেই, আলোচনার কেন্দ্রে সেই চেনা প্রশ্ন—বিশ্বসেরার মুকুট উঠবে কার মাথায়?
আজ সোমবার, ২৬ অক্টোবর লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ২টায় শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। যেখানে সবচেয়ে বেশি আলো থাকবে হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পের দিকে।
১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর উদ্যোগে শুরু হয়েছিল ব্যালন ডি’অর। প্রথম পুরস্কার জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউস। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পুরস্কারের ৭০তম বর্ষপূর্তির আয়োজন এবার লন্ডনে নেয়া হয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে ফ্রান্স ফুটবল ও উয়েফা যৌথভাবে এই আয়োজন করছে।
পুরুষদের বিভাগে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, স্পেনের লামিনে ইয়ামাল, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলে ও ২০২৪ সালের বিজয়ী রদ্রি। আছেন আর্লিং হালান্ড, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহামসহ আরো অনেকে।
তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে কেইনকে অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে আলোচনায় কেইন। বুন্দেসলিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতাদের মাঝে শীর্ষে থাকা এই ইংলিশ তারকা দলকে লিগ শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এবার ব্যালন ডি’অর জিতলে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার পাবেন তিনি। তবে কেইনের পথ সহজ নয়। ইয়ামাল ও এমবাপ্পেও রয়েছেন আলোচনায়। তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন মেসি, দেম্বেলে ও রদ্রির মতো তারকারা।
নারীদের ব্যালন ডি’অরেও রয়েছে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ৩০ জনের তালিকায় আছেন দুইবারের বিজয়ী অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস, পোল্যান্ডের এভা পায়োর, হাইতির মেলচি দুমর্নে, ইংল্যান্ডের খাদিজা শ এবং আরো অনেক তারকা।
ব্যালন ডি’অরের ভোটে শুধু গোলসংখ্যা কিংবা ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানই বিবেচনায় আসে না। পুরো মৌসুমের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, ম্যাচে নির্ধারক ভূমিকা, দলীয় সাফল্য ও শিরোপার পাশাপাশি খেলোয়াড়সুলভ আচরণও গুরুত্ব পায়।
নির্ধারিত দেশের সাংবাদিকেরা সংক্ষিপ্ত তালিকার খেলোয়াড়দের পছন্দের ক্রমে সাজিয়ে ভোট দেন। সেই ভোটের হিসাবেই নির্ধারিত হয় বিজয়ী।
এবার নারী-পুরুষের মূল ব্যালন ডি’অরের পাশাপাশি সেরা তরুণ খেলোয়াড়, গোলরক্ষক, কোচ ও ক্লাবের পুরস্কারও দেয়া হবে। মানবিক উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে থাকবে সক্রেটিস পুরস্কার।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল লিওনেল মেসি, আটবারের বিজয়ী। তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জিতেছেন পাঁচবার। গত বছর পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন দেম্বেলে, আর নারীদের পুরস্কার উঠেছিল বোনমাতির হাতে।
এবার সেই ইতিহাসে নতুন নাম যুক্ত হবে, নাকি পুরোনো কোনো তারকা আবারো নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন- সেই উত্তর মিলবে লন্ডনের মঞ্চে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








