
দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি মৃত্যু রহস্য। ফুটবল কিংবদন্তির জীবন কি চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই থেমে গিয়েছিল— উত্তর মেলেনি সেই প্রশ্নেরও। তবে এবার সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।
ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে চলা মামলার রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন আর্জেন্টিনার আদালত। আগামী ২২ ডিসেম্বর জানা যাবে, অভিযুক্ত সাত স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতের সিদ্ধান্ত কী।
ছয় মাসের বিচারপ্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এদিন ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা ম্যারাডোনা ও কয়েকজন আসামির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুনানি শেষ হয়।
আদালতে দালমা ম্যারাডোনা বলেন, ‘আমি আশা করি, আমার বাবা তার প্রাপ্য ন্যায়বিচার পাবেন, যেমনটা অন্য যে কারো পাওয়া উচিত।’
মামলায় বড় প্রশ্ন ছিল, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ম্যারাডোনাকে হাসপাতালে না রেখে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রাখার সিদ্ধান্তটি চিকিৎসায় অবহেলা ছিল কি-না।
কৌঁসুলিদের দাবি, যে বাড়িতে তার চিকিৎসা চলছিল সেখানে হাসপাতালের শয্যা, ডিফিব্রিলেটর কিংবা দ্রুত পৌঁছাতে সক্ষম অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি চিকিৎসাসুবিধা ছিল না।
তাদের মতে, এমন অবস্থায় ম্যারাডোনাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া দায়িত্বে অবহেলারই প্রমাণ। যদিও অভিযুক্তরা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গত এপ্রিলে শুরু হওয়া বিচার প্রক্রিয়ায় ৭০ জনের বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের কয়েকজন আদালতে জানিয়েছেন, ম্যারাডোনার পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ শনাক্ত করার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে তার শরীরে পানি জমেছিল, হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত ছিল এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল বলেও আদালতে জানানো হয়।
এই মামলায় মোট সাত স্বাস্থ্যকর্মী অভিযুক্ত। তাদের মধ্যে ছয়জনের জন্য চার থেকে ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন কৌঁসুলিরা। সবচেয়ে বেশি ১২ বছরের সাজা চাওয়া হয়েছে ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোলদো লুকের জন্য।
তবে প্রসিকিউশনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন লুকের আইনজীবীরা। তাদের দাবি, ম্যারাডোনার মৃত্যু আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব ছিল— এমন বক্তব্যের ভিত্তি নেই। মামলায় লুকেকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। আত্মপক্ষ সমর্থনে অডিও রেকর্ডিং, বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ ও ময়নাতদন্তের ভিডিওসহ বিভিন্ন নথি আদালতে উপস্থাপন করেন তারা। এসব উপস্থাপনায় ম্যারাডোনার মেয়েরা ক্ষুব্ধও হন।
লুকে নিজেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আদালতে তিনি বলেন, ‘ম্যারাডোনার সাথে তার সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ ছিল বলেই তাকে আক্রমণ করা সহজ।’
নিজের সাথে ম্যারাডোনার সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একমাত্র ডিয়েগোই আমাকে রক্ষা করতেন।’
প্রয়াত তারকার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে লুকে বলেন, ‘আমি তার গভীরভাবে যত্ন নিতাম, তাকে ভালোবাসতাম। তিনি ছিলেন আমার আদর্শ ও বন্ধু।’
এখন অপেক্ষা ২২ ডিসেম্বরের। সেদিনই জানা যাবে, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত সাত স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতের রায় কী হয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ফুসফুসে পানি জমার কারণে তার মৃত্যু হয়। এর আগে মস্তিষ্কে ছোট একটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল তার। অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য বুয়েনস এইরেসের উত্তরে তিগ্রে এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে রাখা হয়েছিল তাকে। সেখানেই নিজের বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকাকে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








