হামজা ও বাংলাদেশ কোচ ডুলি
হামজা ও বাংলাদেশ কোচ ডুলি। সংগৃহীত

হামজা চৌধুরীর সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই। ইংলিশ ফুটবলের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশ দলে যোগ দেয়ার পর রক্ষণ, মাঝমাঠ কিংবা আক্রমণ—প্রায় সব জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। কিন্তু সতীর্থদের সাথে বোঝাপড়ার ঘাটতিই এখন হতাশ করছে এই মিডফিল্ডারকে। একই হতাশা লুকাননি বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলিও।

Advertisement

তবে বিষয়টি নিয়ে হামজা নিজে সরাসরি কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। তার হতাশার কথা মূলত কোচ ডুলির বক্তব্য থেকেই জানা গেছে। গত ১৬ অক্টোবর এই নিয়ে মুখ খোলার পর আবারো আজ সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা করেন ডুলি। 

তিনি জানান, হামজা মাঠে যে ধরনের ফুটবলীয় চিন্তা নিয়ে খেলেন, সতীর্থদের অনেকেই সেই চিন্তা বুঝতে পারছেন না।

বাংলাদেশের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচে চার গোল করেছেন ২৯ বছর বয়সী হামজা। মূলত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হলেও দলের প্রয়োজনে বিভিন্ন পজিশনে খেলতে হয় তাকে। সমস্যা তৈরি হচ্ছে সেখানে, যেখানে হামজার চিন্তার সাথে সতীর্থদের চিন্তার মিল হচ্ছে না। তার দেয়া পাসের উদ্দেশ্য বুঝতে পারছেন না সতীর্থরা, আবার ফাঁকা জায়গায় দৌড়ালেও অনেক সময় বল পাচ্ছেন না তিনি।

ডুলির ভাষায়, ‘হামজা সতীর্থকে দেখে এবং বল পাস করে, কিন্তু অন্য খেলোয়াড় সেটা দেখেও না, বোঝেও না। তাই বলের দিকে দৌড়ও দেয় না। এটা সম্পূর্ণ ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তার বিষয়। কিংবা হামজা হয়তো ফাঁকা জায়গায় দৌড়ে যাচ্ছে, সে পুরোপুরি খালি, কিন্তু বল পাচ্ছে না, কারণ তার সতীর্থ তাকে দেখতেই পাচ্ছে না।’

হামজার হতাশার পেছনের কারণও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ। তার মতে, মাঠের চারপাশ দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতার ঘাটতিই বাংলাদেশের ফুটবলারদের বড় দুর্বলতা। পেশাদার ও অপেশাদার খেলোয়াড়ের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয় এই ফুটবলীয় বোধ।

ডুলি বলেন, ‘কারণ তারা মাঠ স্ক্যান করতে পারে না, তাদের সেই ফুটবলীয় জ্ঞানটাই নেই। একজন পেশাদার খেলোয়াড় এবং একজন অপেশাদার খেলোয়াড়ের মাঝে মূল পার্থক্যটাই ঠিক এই জায়গায়।’

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ৯-২ গোলের হারও দুই দলের সামর্থ্যের ব্যবধানটি সামনে এনেছিল। সেই ব্যবধানের পেছনে আর্থিক ও পেশাদার কাঠামোর পার্থক্যকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন ডুলি।

‘একটা কারণ তো নিশ্চয়ই আছে যে কেন বেশিভাগ ইন্দোনেশিয়ান খেলোয়াড় বছরে এক থেকে তিন মিলিয়ন ডলার আয় করে, আর আমাদের খেলোয়াড়রা আয় করে শূন্য থেকে ৪০ হাজার ডলারের মধ্যে। হ্যাঁ, এখানেই মানের গুরুত্ব রয়েছে।’

সব মিলিয়ে ডুলির বক্তব্যে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ফুটবলের বড় এক দুর্বলতা। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতার ঘাটতি। আর সেই ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে হামজার মতো উচ্চমানের ফুটবলীয় চিন্তায় অভ্যস্ত একজন খেলোয়াড়কে।