
মেসি-রোনালদোর পুরোনো দ্বৈরথ এবার ফিরেছে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে, তবে একটু ভিন্নভাবে। ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম বেছে নিতে সমর্থকদের জন্য বিশেষ ভোটের আয়োজন করেছে পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম।
সেই ভোটে এখন পর্যন্ত বড় ব্যবধানে এগিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম। পেয়েছে ৬২ শতাংশ ভোট। বিপরীতে লিওনেল মেসির ২০১২ সালের ঐতিহাসিক মৌসুমের পক্ষে পড়েছে ১৩ শতাংশ ভোট।
২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছিলেন রোনালদো। দলকে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২ গোল করেছিলেন তিনি।
সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর ওঠে তার হাতে। মূল পুরস্কারের ভোটেও তখন তিনি বড় ব্যবধানে মেসিকে পেছনে ফেলেছিলেন—রোনালদো পেয়েছিলেন ৪৪৬ পয়েন্ট, মেসি ২৮১।
অন্যদিকে, মেসির ২০১২ সালের মৌসুমটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের উদাহরণ। ওই ক্যালেন্ডার বছরে ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করে গড়েছিলেন অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড। একই বছর টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন আর্জেন্টাইন তারকা। কিন্তু এবারের ভোটে সেই মৌসুমই রোনালদোর ২০০৮-এর চেয়ে অনেক পিছিয়ে।
মেসির ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম রয়েছে ভোটের পরের অবস্থানে, পেয়েছে ৯ শতাংশ সমর্থন। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পর ওই পুরস্কার জেতেন মেসি। পিএসজির হয়ে লিগ ওয়ান ও ফরাসি সুপার কাপ জেতার পাশাপাশি ৪১ ম্যাচে ২১ গোল ও ২০ অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি।
রোনালদোর ২০১৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে ৭ শতাংশ ভোট। ২০১৬ সালের মৌসুমের পক্ষে ভোট পড়েছে ২ শতাংশ। মেসি ও রোনালদোর অন্য ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমগুলোতে সমর্থন রয়েছে ১ শতাংশের আশপাশে কিংবা তার নিচে।
এই ভোটে মেসি-রোনালদোর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেডো দি স্তেফানো।
অর্থাৎ, ভোটটি শুধু মেসি-রোনালদোর মাঝে সীমাবদ্ধ নয়; একাধিকবার ব্যালন ডি’অর জেতা ১০ কিংবদন্তির সেরা মৌসুম বেছে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সমর্থকরা। তবে ভোটের পদ্ধতিটিও বেশ আলাদা। প্রতিটি ভোট দিতে খরচ হচ্ছে এক ইউরো।
একই খেলোয়াড় বা একই মৌসুমের পক্ষে একাধিকবার ভোট দেয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে ৬২ শতাংশের এই ব্যবধানকে কোনো বিশেষজ্ঞ বা বিচারকমণ্ডলীর চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি মূলত অংশ নেয়া সমর্থকদের পছন্দের প্রতিফলন। ভোট চলবে ২৭ অক্টোবর প্যারিস সময় মধ্যরাত পর্যন্ত।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








