
টানা আট জয়ে ছুটছিল ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু উড়তে থাকা সেই সিটিকেই এবার থামিয়ে দিলো পিএসজি। ঘরের মাঠে চেনা দর্শকদের সামনেও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে দাঁড়াতে পারেনি তারা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে শুরু থেকেই সিটির ওপর চড়াও ছিল পিএসজি। বুধবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধেই ৩ গোলের ধাক্কায় কোণঠাসা হয়ে পড়া সিটিকে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে হারিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই।
ম্যাচের ১৩ মিনিটেই দ্রুত আক্রমণ থেকে দেজিরে দুয়ের নিচু শটে এগিয়ে যায় পিএসজি। মাত্র দুই মিনিট পরই আবার আঘাত হানে দলটি। এবার দুয়ের ক্রস থেকে দারুণ হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে।
২ গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই সিটির ওপর চাপ আরো বাড়াতে থাকে পিএসজি। ৩২ মিনিটে জাইরে-এমেরির চমৎকার ব্যাকহিল পাস থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় তৃতীয় গোলটি করেন ভিতিনিয়া। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-০ ব্যবধানে।
৩ গোল পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে সিটি। বিরতিতে তিন পরিবর্তন এনে আক্রমণে গতি বাড়ান কোচ এনজো মারেসকা। তাতে বদলে যায় ম্যাচের চেহারা। ৫৩ মিনিটে ইলিমান এনদিয়ায়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করে সিটিকে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখান আর্লিং হালান্ড।
এই গোলেই চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হয়ে যান হালান্ড। তবে তার সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬২ মিনিটে ম্যাগনেস আকালিউশের শটে আবারো সিটির জালে বল জড়ায়। ব্যবধান হয়ে যায় ৪-১।
তবু হাল ছাড়েনি সিটি। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ৭৫ মিনিটে ফের গোল করেন হালান্ড। তাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৬০ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৬১-তে। তার চেয়ে দ্রুত চ্যাম্পিয়নস লিগে এত গোল করতে পারেননি আর কেউ।
জোড়া গোল করে সিটিকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করলেও হালান্ডের সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। বাকি সময়ে একের পর এক আক্রমণ করেও ব্যবধান কমাতে পারেনি স্বাগতিকরা।
বরং শেষ দিকে পিএসজির সামনে ব্যবধান আরো বাড়ানোর সুযোগ আসে। পেনাল্টি পায় ফরাসি ক্লাবটি। স্পট কিকে অবশ্য গোল করতে পারেননি ফেরান তোরেস; তার শট ঠেকিয়ে দেন সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা।
শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পিএসজি। এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই ম্যাচে দুই জয় পেল বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে টানা আট জয়ের পর মৌসুমের প্রথম হারের স্বাদ পেল ম্যানচেস্টার সিটি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








