
ফ্রান্সে বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি মরহুম শরীফ আল মমিন ও সাবেক কৃতি ফুটবলার মরহুম সামাদের স্মরণে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসে বাংলাদেশী ফুটবলারদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি আরো জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়াত দুই ক্রীড়ানুরাগীর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে এ ম্যাচের আয়োজন করা হয়।
রোববার (৫ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসের লা-কর্নভ ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত এ প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশী নবীন ও প্রবীণ ফুটবলাররা অংশ নেন। ম্যাচকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন এবং পুরো ম্যাচ উপভোগ করেন।
খেলার শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই। অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নবীন ফুটবলারদের নৈপুণ্যও দর্শকদের মুগ্ধ করে। শেষ পর্যন্ত নবীন ফুটবলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। এ সময় বক্তারা প্রবাসে বাংলাদেশী তরুণদের খেলাধুলায় আরো বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তারা বলেন, খেলাধুলা শুধু শারীরিক ও মানসিক বিকাশেই ভূমিকা রাখে না, বরং প্রবাসে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর আগে মরহুম শরীফ আল মমিন ও মরহুম সামাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণ-পূর্ব আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় সাবেক ফুটবলার জসীমউদ্দীন গিয়াসের সভাপতিত্বে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ফয়ছল উদ্দিন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ফ্রান্স গ্লোবাল জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা নূর খান, হাজী কাওসার, স্বরলিপি শিল্পী গোষ্ঠী ফ্রান্সের সভাপতি এমদাদুল হক স্বপন, ঢাকা বিভাগ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক মুসলিম রুমেল, নরসিংদী জেলা সমিতির সভাপতি আজম খান, বরিশাল বিভাগ কমিউনিটি ফ্রান্সের সহ-সভাপতি আমিনুর রহমান ফারুক এবং ঢাকা বিভাগ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আক্কাস।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন পারভেজ আহমদ, আব্দুল কাদির, কুয়েস আহমদ, আরিফ আহমদ, আলী আহমদ রুমোন, ছাইমোন আহমদ, শামিম আহমেদ, হুমায়ূন কবির রেজা, ফয়ছল আহমেদ, জিয়াউর রহমান জিয়াসহ আরো অনেকে।
বক্তারা মরহুম শরীফ আল মমিন ও মরহুম সামাদের স্মৃতিচারণ করে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশী ক্রীড়াবিদদের ঐক্যবদ্ধ করে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
একই সাথে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশীদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীরা এ ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, প্রবাসে বসেও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ততা ধরে রাখা এবং প্রয়াত ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের স্মরণ করা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশী ক্রীড়া ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








