ফুটবল
গোল করার পর উল্লাস করছেন ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা। নয়া দিগন্ত

ফ্রান্সের একের পর এক আক্রমণ, গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা—কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। উল্টো গোল হজম করে ছিল ভীষণ চাপে। মনে হচ্ছিল, হয়তো ঘরের মাঠে আবারো হোঁচট খেতে যাচ্ছে জিনেদিন জিদানের দল। 

Advertisement

কিন্তু পরের ১৪ মিনিটে যা ঘটল, তা অবিশ্বাস্য! একের পর এক গোল করে পুরো ম্যাচের চিত্রই পাল্টে দিল জিনেদিন জিদানের দল। বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ঘরের মাঠে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ফ্রান্সের নতুন কোচ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে উয়েফা নেশন্স লিগে নিজেদের মাঠে ৩৫ মিনিটে দদি লুকেবাকিওর গোলে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বেলজিয়ামের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করেও সফল হচ্ছিল না তারা। ব্যর্থ হচ্ছিল আক্রমণ। 

তবে ম্যাচের ৭২ মিনিটে দেজিরে দুয়েকে নামানোর পরই শুরু হয় ফ্রান্সের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। মাঠে নেমে পাঁচ মিনিটের মাঝেই কাজের কাজটি করেন দুয়ে। লুকা দা কুইয়ার পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে বেলজিয়ামের জালে বল পাঠান তিনি।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ফ্রান্সকে। সমতা ভেঙে ৮১ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রায়ান শের্কি। আর সাত মিনিট পর ব্যবধান আরো বাড়ান ওলিসে। 

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বেলজিয়ামের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার। জাতীয় দলের সবশেষ তিন ম্যাচে মোট চার গোল করলেন তিনি।

অর্থাৎ ৭৭ থেকে ৯১ মিনিট—মাত্র ১৪ মিনিটে চার গোল। ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ফ্রান্স তখন ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে। শেষ বাঁশিতে তাই হতাশ বেলজিয়াম, আর ঘরের মাঠে উল্লাস জিদানের দলের।

ম্যাচে আধিপত্যও ছিল ফ্রান্সের। প্রায় ৬৬ শতাংশ বলের দখল রেখে ২৩টি শট নেয় তারা, যার আটটি ছিল লক্ষ্যে। বেলজিয়াম শট নেয় পাঁচটি, লক্ষ্যে রাখতে পারে দু’টি।

এই জয়ে চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপের শীর্ষে ফ্রান্স। চার ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ইতালি দুইয়ে, ৬ পয়েন্ট নিয়ে বেলজিয়াম আছে তিনে। তুর্কিরা হেরেছে চার ম্যাচেই।