ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগাল, ফুটবল
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সংগৃহীত

নরওয়ের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ডেনমার্কের বিপক্ষেও তাকে একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন কোচ জর্জ জেসুস। কিন্তু এরপরই হঠাৎ জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে দেন পর্তুগালের অধিনায়ক।

Advertisement

কেন এমন সিদ্ধান্ত, সেটিও এখনই খোলাসা করেননি তিনি। তবে জানিয়েছেন, যথাসময়ে প্রকাশ করবেন সবকিছু। এদিকে রোনালদোর সেই বার্তায় বিদায়ের সুর খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠছে—তবে কি বলে দেবেন পর্তুগালের জার্সিকে বিদায়?

ঘটনার শুরু বুধবার জেসুসের সংবাদ সম্মেলন থেকে। নরওয়ের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে থাকার পর ডেনমার্কের বিপক্ষেও রোনালদোকে শুরু থেকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত জানান পর্তুগালের কোচ। তবে রোনালদো অনুশীলনে অংশ নেবেন বলেও নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।

জেসুস বলেন, ‘গতকাল সে (রোনালদো) অনুশীলন করতে অস্বীকার করেনি। জিমে কাজ করেছে। আজ অনুশীলন করবে। এটি চতুর্থ দিন, তাই সে অনুশীলন করবে।’

রোনালদোকে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন জেসুস। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি সে ম্যাচটি শুরু করবে না ও তাকে বেঞ্চে থাকতে হবে। যদি আমার তাকে ৩০ মিনিটের জন্য প্রয়োজন হয়, তাহলে সে খেলবে। আর যদি আমার তাকে প্রয়োজন না হয়, তাহলে সে খেলবে না।’

এরপরই আরো কঠোর বার্তা দেন পর্তুগালের কোচ, ‘কোনো খেলোয়াড় আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না। সে হোক রোনালদো কিংবা ফুটবলের অন্য কেউ। এমনকি কোনো সভাপতিও নয়। এটা কখনোই হবে না।’

জেসুসের সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই ঘটে নাটকীয় ঘটনা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান রোনালদো। 

পর্তুগালের সংবাদপত্র ‘আ বোলা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারকেন স্টেডিয়াম থেকে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের একটি গাড়িতে করে চলে যান তিনি। সে সময় ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও ছাড়া তার অন্য সতীর্থরা মাঠে প্রবেশ করছিলেন।

ক্যাম্প ছাড়ার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতিও দেন রোনালদো। সেখানে তিনি জানান, কোচের সংবাদ সম্মেলন ও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সাথে আলোচনার পরই ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রোনালদো বলেন, ‘জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর ও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সাথে আলোচনার পর আমি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটি অবশ্য এখনই খোলাসা করেননি।

বরং যথাসময়ে কারণ জানানোর কথা বলেছেন পর্তুগাল অধিনায়ক। রোনালদো বলেন, ‘যথাসময়ে আমি পর্তুগিজদের জানাব, কী কারণে আমি সেই জাতীয় দল ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার জন্য আমি সবসময় নিজেকে উৎসর্গ করেছি।’

বিবৃতির শেষেও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা। রোনালদো লেখেন, ‘এখন পর্তুগাল এবং আমার সব সতীর্থকে, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই, শুভকামনা জানানোর সঠিক সময়।’ আর এ বক্তব্যের পরই রোনালদোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। 

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি, জাতীয় দল থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন রোনালদো। তাদের প্রতিবেদনে ওয়েলসের বিপক্ষে আলভালাদে স্টেডিয়ামে খেলা ম্যাচটিকে পর্তুগালের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে রোনালদো কেন ক্যাম্প ছাড়লেন, সেই ব্যাখ্যা তার নিজের কাছ থেকেই আসার অপেক্ষা এখন। আর সেই বক্তব্যেই পরিষ্কার হতে পারে—এটি কি কেবল একটি ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা, নাকি সত্যিই পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর শেষ অধ্যায়ের শুরু।