গোল, ফ্রান্স, ওলিসে
বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারাল ফ্রান্স। সংগৃহীত

গোলের জন্য একের পর এক আক্রমণ, ১৮ শটে ৭টি লক্ষ্যে- তবু কিছুতেই জালের দেখা পাচ্ছিল না ফ্রান্স। গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বারবার আটকে যাচ্ছিল তাদের চেষ্টা, একবার বল ফিরেছে ক্রসবারেও। 

Advertisement

শেষ পর্যন্ত বদলি নেমে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন মাইকেল ওলিসে। ম্যাচের শেষ দিকে দুর্দান্ত এক গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে উয়েফা নেশন্স লিগে জয়ের ধারা ধরে রাখল ফরাসিরা।

ব্রাসেলসে সোমবার রাতে ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপের ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতেছে ফ্রান্স। নতুন কোচ জিনেদিন জিদানের অধীনে প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পেল দলটি। ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে তারা। 

প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারানো একাদশ থেকে এদিন ৯টি পরিবর্তন আনেন জিদান। অভিষেক হয় আঁদি দিউফ, জেহেমি জ্যাকে ও লুকা দা কুইয়ার। ২০১০ সালের আগস্টের পর এই প্রথম কোনো ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে একসাথে তিন বা এর বেশি খেলোয়াড়ের অভিষেক হলো।

চোটের কারণে মূল অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছাড়া খেলতে নামা ফ্রান্স ষষ্ঠ মিনিটেই প্রথম সুযোগ পায়। তবে বক্সের ভেতর থেকে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এস্তেবান লাপোর্ত। ছয় মিনিট পর আবার সুযোগ আসে। দেজিরে দুয়ে বক্সে ঢুকে তিন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে শট নিলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

১৭তম মিনিটে লাপোর্তের শট সহজেই ঠেকান বেলজিয়ামের গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করে বেলজিয়াম, কিন্তু কেভিন ডে ব্রুইনের পাসে পা ছোঁয়াতে পারেননি শার্লে ডে কেটলারে।

প্রথমার্ধে ফ্রান্সের আরো একটি প্রচেষ্টা ছিল আলোচনায়। বক্সে বাহদলে বাহকোলা পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন করে ফ্রান্স, তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি।।দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমেনি ফ্রান্সের। দুয়ের নিচু শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

পরে তার আরেকটি প্রচেষ্টা ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক সানা লমেন্স। অন্যদিকে ৭৩তম মিনিটে প্রথমবারের মতো শট লক্ষ্যে রাখতে পারে বেলজিয়াম। দদি লুকেবাকিওর প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁ। পাঁচ মিনিট পর আবার সুযোগ পেয়েও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন ওলিসে। ৭৭তম মিনিটে বাহকোলার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে রায়ান শের্কির ক্রস নিজেদের অর্ধে বুক দিয়ে নামিয়ে নেন তিনি।

সাথে থাকা এক ডিফেন্ডারকে শরীরের জোরে সরিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান বক্সের দিকে। সামনে থাকা আরো দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বাঁ পায়ের জোরাল নিচু শটে বল পাঠান জালে।

গোলের পর সাধারণত শান্ত থাকা জিদানও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। টাচলাইনে ছুটে গিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে উদযাপনে মাতেন ফ্রান্সের কিংবদন্তী কোচ। এমনকি উত্তেজনায় একটি বলেও সজোরে শট করেন তিনি।

এই জয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান আরো শক্ত করল জিদানের ফ্রান্স। বেলজিয়াম ও ইতালির পয়েন্ট ৩ করে, তুরস্ক এখনো পয়েন্টের দেখা পায়নি।