রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারাল স্পেন
৩-২ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারাল স্পেন। সংগৃহীত

জয় থেকে তখন আর এক ধাপ দূরে ইংল্যান্ড। ২-১ গোলে এগিয়ে ওয়েম্বলির গ্যালারিও যখন জয়ের অপেক্ষায়, ঠিক তখনই জয় নিশ্চিত করার একটা উপলক্ষ পান হ্যারি কেইন। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি, তার নেয়া পেনাল্টি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। 

সেই এক মুহূর্তেই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শেষ ৩৫ মিনিটে ২ গোল করে ৩-২ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নেশনস লিগে শুভসূচনা করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বিশ্বকাপের পরও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

শনিবার ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইংল্যান্ডের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের। দ্বিতীয় মিনিটেই মার্ক গেহির ভুলের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নেন লামিনে ইয়ামাল। এরপর গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ডকে পরাস্ত করে স্পেনকে এগিয়ে দেন বার্সেলোনার এই তারকা। 

এরপরও স্পেনের আক্রমণ থামেনি। ৮ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর ১৬ ও ২৭ মিনিটে আরো দু’টি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। প্রথমবার ট্র্যাফোর্ড এগিয়ে এসে তার শট ঠেকান, পরেরবার লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন স্পেনের এই ফরোয়ার্ড।

তবে প্রথম আধা ঘণ্টার চাপ সামলে ৩৬ মিনিটে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহ্যামের সাথে দারুণ বোঝাপড়ার পর বক্সের বাইরে থেকে শটে গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন।

চার মিনিট পরই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বাঁ-দিক থেকে নিকো ও’রাইলির ক্রসে হেড করেন কেইন। তাকে ঠেকাতে গিয়ে মার্ক কুকুরেয়ার উরুতে লেগে বল জালে জড়ায়। গোলটি কেইনের নামেই লেখা হয়, আর ২-১ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইংল্যান্ডের সামনে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ আসে। বক্সে জুড বেলিংহ্যামকে ফাউল করেন স্পেন অধিনায়ক রদ্রি। ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু স্পটকিক থেকে বল ক্রসবারে মারেন কেইন। 

শট নেয়ার সময় তার পা কিছুটা পিছলে যাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। কেইনের পেনাল্টি মিসের পর ৫৫ মিনিটে অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবালকে মাঠে নামান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। 

বদলি হয়ে নামার পাঁচ মিনিট পরই বায়েনা গোল করে স্পেনকে সমতায় ফেরান। নিকো ও’রাইলির ভুলের সুযোগ নিয়ে দানি ওলমোর পাস থেকে বক্সের বাইরে জোরাল শটে গোল করেন তিনি।

এরপর ৭৪ মিনিটে সেই বায়েনার পাস থেকেই জয়সূচক গোল করেন ওইয়ারসাবাল। বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ট্র্যাফোর্ডের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে পাঠান তিনি। দুই বছর আগে ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেছিলেন ওইয়ারসাবাল।

শেষ দিকে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথম ম্যাচেই জয় পেল স্পেন। এই জয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের অপরাজিত থাকার ধারাও ৩৯ ম্যাচে পৌঁছেছে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে স্পেনের সর্বশেষ হার ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।