অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ফুটবল
ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের একটি দৃশ্য। সংগৃহীত

ইতিহাস গড়ার পথে ছিল অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারানো আর মাত্র কয়েকটা মুহূর্তের অপেক্ষা। বিজয় উৎসবের প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছিল স্বাগতিক দল। তবে যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে গোল করে মান বাঁচালো ব্রাজিল। ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে লড়াই।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। তবে প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৬৮ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত শটে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দেন ইরাকুন্দা। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বলটি ব্রাজিলের মানবদেয়াল পেরিয়ে নিচের দিকে নেমে জালে জড়ায়। গোলরক্ষক হুগো সুজার কিছুই করার ছিল না।

গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালালেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়াই এগিয়ে ছিল। তখন স্বাগতিকদের জয় অনেকটাই নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফেরে ব্রাজিল।

যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে রাফিনিয়ার নেয়া কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে লাফিয়ে হেড করেন রায়ান। বলটি দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে উল্লাসে ফেটে পড়ে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা। মুহূর্তেই হতাশায় পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়ার জয়-উৎসবের প্রস্তুতি।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। ফলে ব্রাজিলকে হারানোর অপেক্ষা বাড়ল অস্ট্রেলিয়ার। অবশ্য দুই দলের আগের নয় দেখায় ব্রাজিলের জয় সাতটি, অস্ট্রেলিয়ার একটি। অন্য ম্যাচটি ড্র। 

অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০০১ সালের কনফেডারেশনস কাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে, ১-০ গোলে। এরপর আর ব্রাজিলকে হারাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। অপেক্ষা ফুরালো না ২৫ বছরেও।

তবে এদিন ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। ৬৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে মোট ১৬টি শট নেয় তারা, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সাতটি শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে।

শেষ মুহূর্তের গোলে হারের হাত থেকে বেঁচে গেলেও জয় পাওয়া হলো না ব্রাজিলের। অন্যদিকে ইতিহাস গড়ার খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো অস্ট্রেলিয়াকে।