ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা মাহমুদ আরিফি
ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা মাহমুদ আরিফি। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে সম্ভাবনার অভাব নেই। সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বন, হাওর, চা-বাগান, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবার—সব মিলিয়ে দেশটি হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুধু দর্শনীয় স্থান উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানসম্মত আবাসন, নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত সেবা এবং পর্যটকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা।

Advertisement

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেন ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা মাহমুদ আরিফি। তার মতে, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে স্বতন্ত্র পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার এবং জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটনশিল্পের অবদান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

পর্যটনশিল্পের বিকাশে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি। তার দৃষ্টিতে, পর্যটক যেন শুধু কোনো স্থান দেখে ফিরে না যান; বরং সেখানকার প্রকৃতি, সংস্কৃতি, খাবার ও মানুষের আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যান—পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেটিই।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান : বাংলাদেশের পর্যটনের সবচেয়ে বড় সম্পদ আমাদের প্রকৃতি, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, সিলেট ও শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান, পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়, হাওর, নদ-নদী ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পর্যটনের জন্য অসাধারণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এর সাথে রয়েছে আমাদের লোকজ ঐতিহ্য, আঞ্চলিক খাবার, হস্তশিল্প ও গ্রামীণ জীবনধারা। পরিকল্পিতভাবে এসব সম্পদকে পর্যটনের সাথে যুক্ত করতে পারলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে আলাদা বৈশিষ্ট্যের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

আমার বিশ্বাস, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে এ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। তবে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, মানসম্মত সেবা এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন।

প্রশ্ন : ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন কতটা বাস্তবসম্মত?

ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান : লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী, তবে পরিকল্পিতভাবে এগোলে অর্জন করা অসম্ভব নয়। এজন্য প্রথমে আমাদের পর্যটনসম্পদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। কোন অঞ্চলে কী ধরনের পর্যটন বিকাশের সুযোগ রয়েছে, কোথায় অবকাঠামো উন্নয়ন দরকার এবং কীভাবে স্থানীয় মানুষকে এ খাতের সাথে যুক্ত করা যায়—এসব বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন।
পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত, আবাসন, খাবার, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও তথ্যপ্রাপ্তির ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। একইসাথে বিদেশী পর্যটকদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, সহজ বুকিং ব্যবস্থা এবং পর্যটনসেবায় পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের পরিচিতি শুধু প্রচারের মাধ্যমে বাড়ানো যাবে না; বাস্তব অভিজ্ঞতাও উন্নত করতে হবে। পর্যটক এখানে এসে সন্তুষ্ট হলে তারাই অন্যদের কাছে বাংলাদেশের কথা বলবেন। এই আস্থা অর্জনই আমাদের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।

প্রশ্ন : পর্যটনকে শুধু দর্শনীয় স্থান দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার কথা বলছেন। পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা বলতে কী বোঝাচ্ছেন?

ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান : একটি পর্যটন গন্তব্যের সৌন্দর্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই সব নয়। সেখানে পৌঁছানো কতটা সহজ, থাকার ব্যবস্থা কেমন, খাবারের মান কেমন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন কি না, নিরাপত্তা আছে কি না—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনধারা জানার সুযোগ থাকলে ভ্রমণ আরো অর্থবহ হয়।

শ্রীমঙ্গলের উদাহরণ দেয়া যায়। সেখানকার চা-বাগান পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কিন্তু এর সাথে ঐতিহ্যবাহী খাবার, স্থানীয় সংস্কৃতি, হস্তশিল্প, প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণ ও মানসম্মত আবাসনের সুযোগ যুক্ত করা গেলে পর্যটকের অভিজ্ঞতা আরো সমৃদ্ধ হবে।

একইভাবে কক্সবাজারে সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে। অর্থাৎ একটি গন্তব্যকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে পর্যটকেরা সেখানে সময় কাটাতে আগ্রহী হন এবং আবারো ফিরে আসতে চান।

প্রশ্ন : এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী?

ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান : পর্যটনশিল্পের বিকাশে অবকাঠামো ও সেবার মান বড় বিষয়। নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যাপ্ত গণপরিবহন, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। পর্যটন প্রকল্প গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ করতে হয়। তাই নীতির ধারাবাহিকতা, অনুমোদন প্রক্রিয়ার সহজীকরণ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

সেবার মান বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। শুধু সুন্দর স্থাপনা নির্মাণ করলেই হবে না; কর্মীদের প্রশিক্ষণ, অতিথিদের সাথে ভালো আচরণ, নিরাপত্তা এবং অভিযোগের দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটকের আস্থা অর্জনের জন্য এসব বিষয় অপরিহার্য।

প্রশ্ন : পর্যটনশিল্পে সরকার ও বেসরকারি খাতের ভূমিকা কী হওয়া উচিত?

ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান : এ খাতের উন্নয়নে দুই পক্ষের ভূমিকা পরস্পরের পরিপূরক। সরকারের দায়িত্ব হলো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপত্তা, নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। বেসরকারি খাত মানসম্মত আবাসন, খাবার, বিনোদন এবং অন্যান্য পর্যটনসেবা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে পর্যটনের টেকসই বিকাশ সম্ভব নয়। স্থানীয় মানুষকে পর্যটন গাইড, পরিবহন, খাবার সরবরাহ, হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত করতে হবে। এতে পর্যটনের আয় স্থানীয় অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

একইসাথে পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অপরিকল্পিত স্থাপনা, প্লাস্টিক বর্জ্য, জলাশয় দূষণ এবং বনভূমির ক্ষতি পর্যটনকেন্দ্রের দীর্ঘমেয়াদি আকর্ষণ নষ্ট করতে পারে। তাই উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

প্রশ্ন : ছুটি গ্রুপ পর্যটনশিল্পের বিকাশে কীভাবে ভূমিকা রাখতে চায়?

ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান : আমরা পর্যটকদের নির্ভরযোগ্য ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। গাজীপুর, পূর্বাচল ও পুবাইলে আমাদের তিনটি রিসোর্ট আইএসও ৯০০১:২০১৫ মান ব্যবস্থাপনা সনদপ্রাপ্ত। এটি মান ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে আমরা মনে করি, প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে প্রতিদিনের সেবার মান এবং অতিথিদের সন্তুষ্টির ওপর।

আমাদের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো তৈরি করা নয়; বরং পর্যটকদের চাহিদা বুঝে সেবার মান উন্নত করা। পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, কর্মীদের আচরণ, খাবারের মান এবং অতিথিদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আমরা বিশ্বাস করি, পর্যটন ব্যবসার সাথে স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের সম্পর্ক রয়েছে। তাই নতুন উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ, কর্মসংস্থান এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

প্রশ্ন : ছুটি গ্রুপের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কোন প্রকল্পগুলো রয়েছে?

ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান : পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পুবাইলে পাঁচ তারকা মানের ‘ছুটি সিগনেচার’, পূর্বাচলে ‘ছুটি হারমনি’, কক্সবাজারে ‘ছুটি বিচ রিসোর্ট’, শ্রীমঙ্গলে ‘সালতানাত টি রিসোর্ট’, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে ‘সালতানাত হাইওয়ে ভিলেজ’ এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ‘আনন্দবাড়ি’।

এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিভিন্ন ধরনের পর্যটক ও অতিথির চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেয়ার সুযোগ তৈরি করা। রাজধানীর কাছাকাছি অবকাশযাপন, সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক ভ্রমণ, প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন এবং মহাসড়কে যাত্রাবিরতির মতো বিভিন্ন প্রয়োজনকে সামনে রেখে প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আনন্দবাড়ির মতো উদ্যোগের ক্ষেত্রে তাদের স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা ও উপযোগী সেবার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে যেকোনো প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে পরিচালনার মান, আর্থিক টেকসইতা এবং গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের ওপর।

প্রশ্ন : পর্যটনশিল্প কীভাবে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে?

ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান : পর্যটনের সাথে আবাসন, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, ভ্রমণ পরিচালনা এবং বিনোদনসেবা সরাসরি যুক্ত। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষক, মাছ সরবরাহকারী, খাবারের ব্যবসায়ী, হস্তশিল্পী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও উপকৃত হতে পারেন।

তরুণদের পর্যটন গাইড, হোটেল ব্যবস্থাপনা, রান্না, অতিথিসেবা, ফটোগ্রাফি, ভিডিও নির্মাণ ও ডিজিটাল বিপণনের মতো কাজে প্রশিক্ষিত করা গেলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। নারীদের জন্যও স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হতে পারে।

এজন্য স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যটনের আয় যেন শুধু বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং স্থানীয় মানুষের কাছেও পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তি পর্যটনশিল্পের বিকাশে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান : বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যটন প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ছবি, ভিডিও ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সৌন্দর্য বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা যায়। তরুণেরা এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
তবে প্রচারের সাথে বাস্তব অভিজ্ঞতার মিল থাকা জরুরি। কোনো পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে অতিরঞ্জিত প্রচার করলে পর্যটকের প্রত্যাশা পূরণ না-ও হতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য তথ্য, স্বচ্ছ মূল্যতালিকা, সহজ বুকিং এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে পর্যটকেরা যেন সহজে ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারেন, আবাসন বুক করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন—সেদিকে নজর দেয়া উচিত। সন্তুষ্ট পর্যটকের অভিজ্ঞতাই একটি গন্তব্যের সবচেয়ে কার্যকর প্রচার হতে পারে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প নিয়ে আপনার শেষ কথা কী?

ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান : আমার স্বপ্ন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাবে। আমাদের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার, কারুশিল্প এবং মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।

এজন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন, দায়িত্বশীল বিনিয়োগ, মানসম্মত সেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ। পর্যটনের উন্নয়ন যেন স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নত করে এবং প্রকৃতি ও ঐতিহ্যকে সুরক্ষিত রাখে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

আমি চাই, পর্যটকেরা বাংলাদেশে এসে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করবেন, মানুষের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হবেন এবং দেশে ফিরে অন্যদের কাছে বাংলাদেশের গল্প বলবেন। বাংলাদেশ শুধু দেখার মতো নয়, অনুভব করার মতো একটি পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠুক—এটাই আমার প্রত্যাশা।