স্বর্ণের দাম, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম, স্বর্ণের বাজার, ডলারের দর, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার
স্বর্ণ। সংগৃহীত

দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বেড়েছে স্বর্ণের দাম।

Advertisement

বৃহস্পতিবার ডলারের দর কিছুটা কমায় প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ১৪১ দশমিক ০৯ ডলারে উঠেছে। এর আগে, বুধবার স্বর্ণের দাম ৫ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। শক্তিশালী ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি তখন স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করে।

এদিকে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ১০ ডলারে উঠেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ডলারের দর কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের কাছে ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণের দাম তুলনামূলকভাবে কমে যায়। এতে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোনের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এখনো কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ২৭৫ ডলারের ওপরে উঠতে পারলে বাজারে আরো দাম বাড়ার বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদের হার বাড়াকে বিনিয়োগকারীরা যদি শক্তিশালী অর্থনীতির লক্ষণ হিসেবে না দেখে সরকারের ঋণ ও আর্থিক ঝুঁকির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে বন্ডের সুদের হারের সাথে স্বর্ণের দামের সম্পর্ক বদলে যেতে পারে। এতে স্বর্ণের দাম আরো শক্তিশালীভাবে বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানো নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, কয়েকজন নীতিনির্ধারক জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামের ধাক্কা সামলাতে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে। আবার কয়েকজন মনে করেন, অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়ায় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায়ও সুদের হার বাড়ানো দরকার।

বাজারে চলতি মাসে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ডিসেম্বরের বৈঠকে হার বাড়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।

বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ, আর ডিসেম্বরে প্রায় ৮০ শতাংশ।

সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন।

বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের জ্বালানির উচ্চমূল্য, সরকারের রেকর্ড পরিমাণ ঋণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগের ঝুঁকি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে।’

এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারগুলোকে আর্থিক ও মুদ্রানীতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।