অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি অর্থবছরে তাদের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

Advertisement

তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি তা অর্জন করতে পারব বলে আশা করছি। এনবিআরের কর্মকর্তারা অত্যন্ত উদ্দীপনা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।’

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ আশাবাদ প্রকাশ করেন।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায় কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খসরু বলেন, রাজস্ব আদায় একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হওয়ায় এত দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, ‘মাত্র দেড় মাসের তথ্য দেখে চূড়ান্ত বিচার করা যায় না। শুরুতে কিছু সমস্যা থাকতে পারে। রাজস্ব প্রবৃদ্ধি পরে ধীরে ধীরে বাড়ে।’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে তা দীর্ঘদিনের, যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আদায় ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে। মানুষকে কর দিতে আমাদের উৎসাহিত করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষেই কিছু সমস্যা ছিল। মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া কর দিতে পারে, আমরা তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরিস্থিতি বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং উন্নতি হচ্ছে, তবে আরো উন্নতির সুযোগ রয়েছে।’

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নেমে আসবে—সংস্থাটির এমন পূর্বাভাসের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ‘দেখা যাক কী হয়’ (ওয়েট অ্যান্ড সি) নীতি অবলম্বনের ইঙ্গিত দেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে বলেন, ‘অপেক্ষা করুন এবং দেখুন।’

আজ প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘দক্ষিণ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এক দশমিক দুই শতাংশ কমিয়ে তিন দশমিক চার শতাংশ করা হয়েছে। একইসাথে ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ কমিয়ে তিন দশমিক চার শতাংশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক আরো উল্লেখ করেছে, ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ছয় দশমিক নয় শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৭ সালে কিছুটা কমে ছয় দশমিক সাত শতাংশ হতে পারে। বাসস