বিএনপি, নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো, মাহদী আমিন
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বাসস

কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিসেম্বরে দেশজুড়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। 

Advertisement

বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর অঙ্গীকার অনুযায়ী তরুণ সমাজের জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

আজ রোববার রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন একথা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তারুণ্যের সঠিক ক্ষমতায়ন ও মেধার সর্বোচ্চ বিকাশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশের এই বিশাল ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা ডেমোগ্রাফিক সুবিধা কাজে লাগাতে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকা থেকে এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে এটি পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তরুণদের সুপ্ত মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে গত ছয় মাস ধরে ইন্ডাস্ট্রি, একাডেমিয়া, বিভিন্ন এনজিও, সরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সাথে ধারাবাহিক পরামর্শ করা হয়েছে। সর্বসম্মত নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ডিসেম্বরে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল কাজ হবে শ্রমবাজারের চাহিদা ও যোগানকে এক জায়গায় সংযুক্ত করা উল্লেখ তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এর বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। সরকারের মূল লক্ষ্য তারুণ্যের এই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা এবং মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা যুব সমাজসহ নতুন গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি জব মার্কেটের সাথে যুক্ত করা।

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ নিরূপণ করা হবে ।  

মাহদী আমিন বলেন, একদিকে কর্মক্ষম যুবশক্তির দক্ষতা ও যোগ্যতার ডাটাবেজ থাকবে, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজের চাহিদার হিসাব থাকবে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে তৈরি হবে একটি একীভূত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

এর পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপী নিয়মিত ‘ক্যারিয়ার ফেয়ার’ আয়োজন করা হবে। জেলা পর্যায়ে নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘এমপ্লয়মেন্ট ওরিয়েন্টেড ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলা হবে। এই উদ্যোগের আওতায় চাকরির বাজারে প্রবেশকারীদের সিভি রাইটিং, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এবং ইন্টারভিউ মোকাবিলার মতো প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। 

এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশে গমনেচ্ছু তরুণ-তরুণীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ পেতে সহায়তা করা হবে। চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী উভয়পক্ষই এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করবেন। আন্তর্জাতিক নিয়োগদাতারা সরাসরি নিবন্ধন না করলেও যেসব তরুণ বিদেশে যেতে চান, তাদের নিবন্ধনের পর সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার বা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হবে। সরকার এমন একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে যাচ্ছে, যেখানে যেকোনো তরুণ নিজের ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাকে সঠিক কর্তৃপক্ষের সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হবে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আব্দুর রহমান তরফদার প্রমুখ।

সূত্র : বাসস