
স্পেনের মধ্যাঞ্চলে বুধবার সকালে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা ৪৬ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির একটি দৈনিক। তবে হতাহতদের সংখ্যা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদুলু বুধবার (২৮ অক্টোবর) জানায়, স্পেনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। অন্যদিকে, স্পেনের দৈনিক এল এস্পানিওল আঞ্চলিক সরকারের সূত্রের বরাতে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৪৬ বলে জানিয়েছে।
সরকারি সূত্র প্রথমে দৈনিক এল পাইসকে জানিয়েছিল, দুর্ঘটনাটি গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ স্পেনে ঘটে যাওয়া ট্রেন দুর্ঘটনার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। ওই দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এবারের দুর্ঘটনায় কতজন আহত হয়েছেন, তা-ও এখনো জানা যায়নি।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রেনফে এভিইর একটি দ্রুতগতির ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকা ইরিও ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায় বলে জানিয়েছে জরুরি সেবাকর্মীরা।
আঞ্চলিক সরকারের এক মুখপাত্র জানান, ইরিও ট্রেনে ১৪৭ জন এবং রেনফে ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন।
ইরিও ট্রেনের যাত্রী এদুয়ার্দা স্পেনের রেডিও স্টেশন কাদেনা সেরকে বলেন, ‘ট্রেনের নিচে মৃতদেহ ছিল। অনেকেই বের হতে পারছিলেন না। চারদিকে চিৎকার। ভয়াবহ এক পরিস্থিতি।’
স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫৪ মিনিট) তোলেদো প্রদেশের উর্দা স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছে, দুটি ট্রেনই মাদ্রিদ-সেভিয়া পথে চলাচল করছিল। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
দুর্ঘটনাস্থলে দমকলকর্মী, চিকিৎসাকর্মী ও চিকিৎসাসেবার হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা আঞ্চলিক সরকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা কার্যকর করে।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পাখে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। বুধবারের নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি বাতিল করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেতসোলাসহ ইউরোপের বিভিন্ন নেতা শোক জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক খবরে মানুষের ভুলের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








