
পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব মোকাবেলায় নিজেদের স্বাভাবিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায় রাশিয়া। এ লক্ষ্যেই বুধবার ও বৃহস্পতিবার মস্কোতে প্রায় দুই ডজন আফ্রিকান নেতাকে নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করছে দেশটি।
২০১৯ সালের পর এটি রাশিয়া-আফ্রিকা তৃতীয় সম্মেলন। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে মস্কো। একই সময়ে আফ্রিকার কয়েকটি সরকারকে নিরাপত্তা সহায়তাও দিচ্ছে রাশিয়া।
সোভিয়েত আমল থেকেই আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে মস্কো। আন্তর্জাতিক বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব ও আধিপত্যের ভারসাম্য রক্ষায় আফ্রিকাকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে রাশিয়া।
ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ সম্মেলন সম্পর্কে বলেন, ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমরা স্বাভাবিক মিত্র।’
বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা বলতে এমন একটি আন্তর্জাতিক কাঠামোকে বোঝানো হয়, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা শুধু পশ্চিমা দেশগুলোর হাতে কেন্দ্রীভূত না থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল ও শক্তির মধ্যে বণ্টিত থাকবে।
উশাকভ জানান, আফ্রিকার ৪৮টি দেশের প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেবে। এর মধ্যে ২২টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশগুলোর রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আফ্রিকায় পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাবকে প্রায়ই ‘নব্য ঔপনিবেশিকতা’ বলে সমালোচনা করেন। তার এই বক্তব্য আফ্রিকার বেশ কয়েকজন নেতার সমর্থন পেয়েছে। বিশেষ করে সাহেল অঞ্চলের সাবেক ফরাসি উপনিবেশগুলোর নেতাদের মধ্যে এ অবস্থানের প্রতিধ্বনি দেখা গেছে।
সম্মেলনে পুতিনের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে মালির প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতার। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হামলা মোকাবেলায় মালির সরকার রুশ আধা-সামরিক বাহিনীর সহায়তা নিচ্ছে।
২০২০ ও ২০২১ সালে পরপর দু’টি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে মালির সামরিক জান্তা। এরপর দেশটি তার সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের কাছ থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
উশাকভ জানান, সম্মেলনে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ‘সব প্রতিনিধিদলের প্রধান তাদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পাবেন’।
ডিআর কঙ্গো-রুয়ান্ডা উত্তেজনার মধ্যে সম্মেলন
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) ও রুয়ান্ডার মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশ দু’টি সম্মেলনে নিজেদের প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে।
ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি সম্মেলনে যোগ দেবেন। অন্যদিকে, রুয়ান্ডার প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন এনসেনগিউমভা।
রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ২০২১ সালে নতুন করে সশস্ত্র তৎপরতা শুরুর পর থেকে পূর্ব ডিআর কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ডিসেম্বরে যুদ্ধবিরতি হলেও সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, সম্মেলনে ৩৩টি নথি স্বাক্ষর করা হবে। এসব নথির কয়েকটিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রতি বছর হাজার হাজার আফ্রিকান শিক্ষার্থীকে রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার সুযোগ দেয়া হয়। এর পাশাপাশি আফ্রিকায় কূটনৈতিক উপস্থিতি আরো বাড়ানোর উদ্যোগও নিচ্ছে মস্কো।
ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা মহাদেশে বর্তমানে রাশিয়ার প্রায় ৪৮টি দূতাবাস রয়েছে। লাইবেরিয়ায় নতুন একটি দূতাবাস খোলার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। সেটি চালু হলে আফ্রিকায় রাশিয়ার দূতাবাসের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৪৯টিতে।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








