ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইলন মাস্ক
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইলন মাস্ক। সংগৃহীত ছবি

ড্রোন হামলায় মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে স্টারলিংক ব্যবহার করে ইউক্রেন তাদের পরিষেবার শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।

Advertisement

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। তবে তার দাবি, পরিষেবার শর্তের এই ফাঁক গত সপ্তাহেই বন্ধ করা হয়েছে।

মাস্ক লেখেন, ‘ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী স্টারলিংকের পরিষেবার শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণাত্মক ড্রোন হামলায় এটি ব্যবহার করেছে।’

অন্য এক পোস্টে তিনি বলেন, স্টারলিংক শুরু থেকেই বেসামরিক যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে, মানুষ হত্যার মাধ্যম হিসেবে নয়। এসব শর্ত লঙ্ঘন করা হলে পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হবে।

তবে মাস্ক স্বীকার করেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য স্টারলিংক এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষায়, ‘এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যেটিকে অন্তত আপাতত জ্যাম করা বা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা যায় না। স্টারলিংক বন্ধ করে দেয়া হলে ইউক্রেনের সম্মুখসারির প্রতিরক্ষা তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়বে।’

২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের বিষয়ে মাস্ক একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। তবে স্টারলিংকের পরিষেবায় যেকোনো বিঘ্নের জন্য তিনি স্পেসএক্সের পরিবর্তে মার্কিন সরকারকে দায়ী করে আসছেন।

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবেলায় ইউক্রেন বেসামরিক স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা স্টারলিংক ও এর সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ডের ওপর নির্ভরশীল।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভগেনি খমারা শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় স্টারলিংক ও স্টারশিল্ডের সংযোগের গতি পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে সংযোগের গতি ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটারের বেশি এবং সংযোগ স্থিতিশীল রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘এই অগ্রগতি আমাদের সম্মুখসারির সেনা, ড্রোন পরিচালনা, রসদ সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খমারা জানান, প্রয়োজনীয় গতিতে সংযোগ ফিরে এসেছে এবং এর পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছিল রাতেই।

রকেটচালিত ড্রোনের হামলা থেকে ইউক্রেনকে রক্ষা করা ও সম্মুখসারিতে রসদ সরবরাহ সচল রাখার ক্ষেত্রেও এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ককে ঘিরে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

সূত্র : বাসস