
গত সপ্তাহান্তে কয়েকটি বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়ায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) ইতালির রাজধানী রোম ও মিলানসহ আটটি শহরে পরিকল্পিত বিক্ষোভকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে।
বাজেট বরাদ্দ কমানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বিশেষ করে বাসাভাড়া ও জ্বালানির মূল্য নিয়ে শিক্ষার্থী, ট্রাকচালক ও কৃষকদের মধ্যে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে এসব কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
রোমের পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিক্ষোভ পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি স্থল ও অনলাইন— উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক নজরদারি চালানো হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইন মেনে চলার শর্তে মত প্রকাশের অধিকার, এমনকি ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারও সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করাই আমাদের লক্ষ্য।’
মিলানে গত সপ্তাহান্তের বিক্ষোভের পর অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এসব সেনা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় টহল দেবেন। তবে শহর বন্ধ করে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন মেয়র জুসেপ্পে সালা।
রেডিও লোমবার্দিয়াকে তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহান্তে আমাদের লোকবল যথেষ্ট ছিল না। এবার আমরা শুধু নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করব।’
গত সপ্তাহান্তে মিলানের কয়েকটি অভিজাত ফ্যাশনবিষয়ক দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এরপর কয়েকটি দোকান বন্ধ রাখা হয়, আবার কিছু দোকানের কাচের জানালায় থাকা পণ্যের প্রদর্শনী সরিয়ে নেয়া হয়। শনিবার দোকানপাট খোলা রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সালা।
শুক্রবার তিনি বলেন, ‘আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে সবকিছু থেমে যায়।’
‘অক্টোবর ১৭ আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন ইতালির আটটি শহরে শনিবার গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী দুপুর ১টায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রতিটি শহরে তিনটি করে বিক্ষোভ মিছিল বের হবে। পরে সেগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে মিলিত হবে। তবে কর্মসূচি শুরুর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে মিছিলগুলোর অবস্থান জানানো হবে।
এদিকে, ‘অ্যান্টি-ইম্পেরিয়ালিস্ট অ্যাক্সিস’ নামে একটি যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনও রোমে পৃথক সমাবেশের আয়োজন করেছে।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নতুন নিরাপত্তা অধ্যাদেশ
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কট্টর ডানপন্থী সরকার চলতি সপ্তাহে একটি নিরাপত্তা অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে। এতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটক-সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভে ‘সহিংসভাবে অংশগ্রহণ’কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালে সন্তানদের কারণে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হলে অভিভাবকদের জরিমানা করার বিধানও রাখা হয়েছে।
শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তের বিক্ষোভে লুটপাট ও সংঘর্ষে জড়িত থাকার সন্দেহে তারা কয়েক ডজন অভিযান চালিয়েছে।
এদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সঙ্কটে পড়া ট্রাকচালক ও জেলেদের সহায়তায় সরকার বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে।
দক্ষিণ ইতালিতে জ্বালানি ও খাদ্য সঙ্কট সৃষ্টি করে কয়েক দিন ধরে জনজীবন অচল করে রাখা ট্রাকচালকদের প্রায় সব অবরোধই এখন তুলে নেয়া হয়েছে।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








