
ফ্রান্সজুড়ে শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির সরকার। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্যারিসের ২৪টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের ঘোষণা অনুযায়ী, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
প্যারিসে বিক্ষোভের নির্ধারিত পথ নিয়ে পুলিশ প্রশাসন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। পুলিশের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে বাস্তিল থেকে নাসিওঁ পর্যন্ত যে পথ নির্ধারণ করা হয়েছিল, প্যারিস পুলিশ প্রিফেকচার তা নিষিদ্ধ করে বিকল্প পথের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলোর যৌথ জোট। তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পোর্ত দিতালি থেকে পোর্ত দ্য ভাঁসেন পর্যন্ত বুলভার দে মারেশো সড়কপথে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্যারিসের ২৪টি মেট্রো স্টেশন সকাল ৯টা থেকে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে পরিবহন সংস্থা আরএটিপি। বন্ধের তালিকায় রয়েছে শঁজেলিজে-ক্লেমঁসো, শার্ল দ্য গোল-এতোয়াল, কঁকর্দ, তুইলেরি, ওদেয়োঁ, মাবিয়োঁসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টেশন। এর ফলে রাজধানীতে যাতায়াত ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, অরলেয়াঁ শহরে উগ্র ডানপন্থী দল র্যাসঁবলমঁ নাসিওনালের (আরএন) সম্মেলন ও বিরোধীদের পাল্টা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সম্মেলনে শনিবার প্রায় পাঁচ হাজার ও রোববার এর দ্বিগুণ সমর্থক অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৫০টি সংগঠনের আহ্বানে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার মানুষ পাল্টা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন বলে পুলিশ সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
শহরের মেয়র সার্জ গ্রুয়ার্ড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যতিক্রমী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার সারাদিন ট্রাম চলাচল বন্ধ থাকবে ও শহরের কেন্দ্র থেকে ভাড়ায় চালিত সাইকেল সরিয়ে নেয়া হবে। পাশাপাশি যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। লোয়ার প্রদেশের প্রিফেক্ট নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রোববার সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, বিক্ষোভ মোকাবিলায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও জেন্ডারম সদস্যের পাশাপাশি রেইড, জিআইএন ও বিএআরআইয়ের মতো বিশেষায়িত বাহিনীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যান ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে আটক ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনার জন্য বিচার বিভাগীয় পুলিশও প্রস্তুত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু শুক্রবার লিমোজ শহরে এক সফরে বলেন, ‘উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে হুমকির মাত্রা এখনো বেশি। একই সাথে অস্থিরতার সুযোগে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে।’
গত সপ্তাহের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে এবারের নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কাঁদানে গ্যাসের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও আলোচনা চলছে। সিএস নামে পরিচিত এই রাসায়নিক চোখ, ত্বক ও গলায় সাময়িক জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় বা বেশি মাত্রায় সংস্পর্শে এলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে ফরাসি জাতীয় পুলিশ দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়ার কথা জানায়নি।
এদিকে বিক্ষোভের কারণে ফ্রান্সের ক্রীড়াঙ্গনেও প্রভাব পড়েছে। লিগ ওয়ানের অষ্টম রাউন্ডের কয়েকটি ফুটবল ম্যাচ পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। প্যারিস সাঁ-জেরমাঁ ও লিয়ঁর মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি সোমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ফুটবল লিগ এনএফএলের সপ্তাহের শেষে প্রথম ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, শরতের ছুটির সময় হওয়ায় শনিবারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখতে চান অনেক দোকানমালিক। তুলুজের এক দোকানমালিকের ভাষ্য, শনিবার ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ দিন হওয়ায় দোকান বন্ধ করে দেয়া মানে পিছিয়ে পড়া। তবে নিরাপত্তার উদ্বেগে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
ফ্রান্সজুড়ে এ বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা ও স্বাভাবিক নাগরিক চলাচল বজায় রাখাই এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








