
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আগামী শনিবারের (২৪ অক্টোবর) সম্ভাব্য বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে সরকার। গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনার সুরক্ষায় সেনাবাহিনীর ‘সান্তিনেল’ অভিযানের আওতায় মোট এক হাজার সেনাকে প্রস্তুত রাখা হবে। তাদের মধ্যে ৫০০ সেনা সরাসরি টহলে নিয়োজিত থাকবেন। বাকি ৫০০ সেনাকে জরুরি প্রয়োজনে মোতায়েনের জন্য সতর্ক অবস্থায় রাখা হবে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম জার্নাল দু দিমঁশে-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে সরকার এবার আগাম প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
গত মঙ্গলবার ফ্রান্সের জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, আগামী শনিবারের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ‘সান্তিনেল’ সামরিক নিরাপত্তাব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে।
সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে সতর্কতার প্রথম স্তর ‘আরও১২’ সক্রিয় করা হয়েছে। গতকাল থেকে অতিরিক্ত ১৫০ জন সেনাও যুক্ত হয়েছেন। সাধারণত প্যারিসে প্রায় ৩০০ সেনা টহল দেন। তবে ২৪ অক্টোবর এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা হবে। পাশাপাশি আরো ৫০০ সেনাকে প্রয়োজনে দ্রুত মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হবে। তবে আপাতত পুরো ‘সান্তিনেল’ বাহিনীকে ব্যাপকভাবে মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই।
প্যারিসের কমপক্ষে পাঁচটি অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে পারে সেনাবাহিনী। এর মধ্যে কয়েকটি দূতাবাস এবং রাজধানীর অষ্টম প্রশাসনিক এলাকায় অবস্থিত ‘সার্কল নাসিওনাল দে আর্মে’ রয়েছে।
সামরিক এ স্থাপনাটিকে ঘিরে হুমকির আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ঐতিহাসিক আর্ক দ্য ত্রিয়ঁফ বা বিজয় তোরণের নিরাপত্তায়। ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই ঐতিহাসিক স্থাপনা। ফ্রান্সের সামরিক ঐতিহ্য ও জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হওয়ায় এবার এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের বক্তব্য অনুযায়ী, সেনারা মূলত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় স্থির অবস্থানে থেকে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এর ফলে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের ওপর চাপ কমবে এবং তারা বিক্ষোভ পরিস্থিতি সামাল দেয়ার কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
সেনাদের সরাসরি বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযানে অংশ নেয়ার পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে। এই পর্যায়ে তাদের দায়িত্ব মূলত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে সতর্কতার উচ্চতর স্তর সক্রিয় করে আরো সেনা মোতায়েনের সুযোগ রয়েছে। সামরিক পরিকল্পনায় ‘আরও৭২’ পর্যন্ত উচ্চতর সতর্কতার ব্যবস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আপাতত ব্যাপক আকারে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
আগামী শনিবারের কর্মসূচিকে ঘিরে ফরাসি কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের মূল কারণ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী নিরাপত্তা পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








