
বিক্ষোভ দমনে ইতালিতে ৫০০ সেনা মোতায়েন, কঠোর হচ্ছে আইন
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দমনে উত্তর ইতালিতে ৫০০ সেনা মোতায়েন এবং কঠোর শাস্তির বিধান অনুমোদন করেছে দেশটির সরকার। গত সপ্তাহান্তে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়ার পর মঙ্গলবার মন্ত্রিসভা এসব পদক্ষেপ অনুমোদন করে।
আল জাজিরা বুধবার (২১ অক্টোবর) জানায়, নতুন ব্যবস্থায় বিক্ষোভের সময় সহিংসতায় জড়িতদের জন্য পৃথক অপরাধের বিধান করা হয়েছে। দাঙ্গাকারীদের শাস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত অপ্রাপ্তবয়স্কদের অভিভাবকদেরও ক্ষতিপূরণের দায় নিতে হতে পারে।
ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার, স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং সার্বিক পর্যবেক্ষণে সেনাবাহিনী সহায়তা করবে।
গত সপ্তাহান্তে উত্তর ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির আর্থিক কেন্দ্র মিলানেও সহিংসতা দেখা যায়। সেখানে মূলত তরুণদের কয়েকটি দল দোকানপাট লুট করে, জানালার কাচ ভাঙে এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায়। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়া, কম মজুরি এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ থেকে এসব বিক্ষোভের জন্ম।
কঠোর শাস্তির বিধান
তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী, অন্তত পাঁচজনের কোনো দলের অংশ হিসেবে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে কেউ জননিরাপত্তা বিপন্ন করলে তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার ইউরো (২২ হাজার ৪৬০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। মুখ ঢেকে রাখলে বা বিক্ষোভের কারণে কেউ আহত হলে শাস্তি আরো বাড়বে।
কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিতে পারবে। অপরাধে অপ্রাপ্তবয়স্করা জড়িত থাকলে তাদের অভিভাবকদেরও ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে।
এ ছাড়া ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের বিপজ্জনক বলে মনে করার যথেষ্ট প্রমাণ থাকলে, কোনো অপরাধ না করলেও পুলিশ তাদের আটক করতে পারবে। আগে এ ক্ষমতা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল।
তবে সেনাদের সরাসরি পুলিশি ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেনি। ইতালির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলার বিরোধিতার পর সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ও চুরি করা বিক্ষোভ নয়, অপরাধ। আর এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








