ফ্রান্স. সংস্কার, গণবিক্ষোভ, টিয়ার গ্যাস, সংঘর্ষ, উত্তাল, প্যারিস,
বিক্ষোভ ও কঁদানে গ্যাস। সংগৃহীত

ফ্রান্সজুড়ে অব্যাহত রয়েছে নজিরবিহীন সামাজিক অস্থিরতা। জীবনযাত্রার উচ্চব্যয় ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিসহ গণপরিষেবার ব্যর্থতার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন দেশের লাখ লাখ মানুষ। রাজধানী প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিক চত্বরে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক 'মারিয়ান' মূর্তির গায়ে হলুদ ভেস্ট জড়িয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে লিবার্টি, ইকুয়ালিটি ও ফ্রাটারনিটি বা স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীকী মূর্তিগুলোর মুখের ওপর দিয়ে কালো অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। শনিবার বিক্ষোভস্থলে দফায় দফায় টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ, যার ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যায়।

Advertisement

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জিএমটি ১৭:০০ ঘটিকায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১:০০ টা) আল জাজিরা ও আহরাম অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা এই আন্দোলন ফ্রান্সকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। শুরুতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নামলেও দ্রুতই সে আন্দোলন সরকারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে সর্বজনীন অসন্তোষে রূপ নেয়। একজন হাইস্কুল শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাত উঁচিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, 'সবাই আজ একসঙ্গে রাজপথে নেমেছি সরকারকে শেষবারের মতো বার্তা দিতে, যেন আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে ভালোভাবে শোনা হয়। কারণ চারপাশে যা ঘটছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখানে এসেছি আমাদের হারিয়ে যাওয়া অধিকারগুলো ফিরিয়ে নিতে।'

এই গণআন্দোলন ফরাসি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষকে এক সূত্রে গেঁথেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নার্স, মানবাধিকার আইনজীবী, দমকল কর্মী ও সাধারণ অভিভাবকদের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন ২০০৮ সালের ঐতিহাসিক 'হলুদ ভেস্ট' বা 'ইয়েলো ভেস্ট' আন্দোলনের কর্মীরাও। শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ ফ্রান্সে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সামাজিক অসন্তোষকে একটি বড় বিস্ফোরণে রূপ দিয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটি এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি, পণ্যের দাম কমানো এবং সরকারি পরিষেবা সুরক্ষার জোরালো দাবি জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যার মধ্যে কেবল রাজধানী প্যারিসেই সমবেত হয়েছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ।