আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন দমকলকর্মীরা
আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন দমকলকর্মীরা। সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

Advertisement

এ হামলার আগে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পায়নি ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ কথা জানিয়েছেন।

রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা শনাক্ত করা ও পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে ইউক্রেন পশ্চিমা দেশগুলোর, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বাস কিয়েভে। সাম্প্রতিক সময়ে শহরটিতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়েছে। এসব হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে জ্বালানি অবকাঠামো।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। আবারো আমাদের মিত্রদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে সিএইচপি-৪ বিদ্যুৎকেন্দ্র। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেটিতে আঘাত হানা হয়েছে।’

কিয়েভে অবস্থানরত বার্তাসংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, তারা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। 

জেলেনস্কি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শহরের কাছাকাছি পৌঁছানোর পরই ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সেগুলোর উপস্থিতি শনাক্ত হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অন্যায্য যে তারা আমাদের অবকাঠামো ধ্বংস করছে, অথচ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়ে ইউক্রেনকে আগাম সতর্কবার্তাও দেয়া হচ্ছে না।’

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, একই হামলায় কমপক্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ সময় শহরের দেসনিয়ানস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনেও আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। এই হামলায় আরো প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন।

এর আগে, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রুশ হামলার সময় কিয়েভের বাসিন্দারা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলেন। তবে বিস্ফোরণের পর বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বেজে ওঠার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে খুব কমই ঘটেছে।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ পরিস্থিতির জন্য রুশ সামরিক বাহিনীর এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা বলেন, যেগুলো শনাক্ত করা কঠিন। পাশাপাশি সম্ভাব্য কারিগরি ত্রুটির বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেন।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আকস্মিকভাবে ‘জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতি’র ঘোষণা দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন। 

তিনি দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল শোধনাগারে দূরপাল্লার হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।

রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কঠোর সমালোচনা করে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

শনিবার তিনি ইঙ্গিত দেন, ‘ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।’

সূত্র : বাসস