ইউরোপে ৩২০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি বিক্রি করেছে রাশিয়া
ইউরোপে ৩২০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি বিক্রি করেছে রাশিয়া। সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও ২০২২ সাল থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে ৩২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের জ্বালানি পণ্য বিক্রি করেছে মস্কো। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

Advertisement

রাশিয়ার জ্বালানিবিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তব্যে বলেন, ‘২০২২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে জ্বালানি সম্পদ সরবরাহের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।’

তিনি জানান, শুধু ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসেই ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার কাছ থেকে ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য কিনেছে।

নোভাক আরো বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞাজনিত বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও যেসব ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হয়েছে, সেসব খাতে আমরা এখনো জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছি।’

তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়ার তেল রফতানি ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে যেতে পারে।

সোমবার লুক্সেমবার্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময় রাশিয়ার দেয়া এ পরিসংখ্যানের প্রসঙ্গ তোলেন সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড।

তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে ২১৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২৪৪ বিলিয়ন ডলার) সহায়তা দিয়েছে।

স্টেনারগার্ড বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনকে যে পরিমাণ সহায়তা দিয়েছি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো রাশিয়া থেকে তার চেয়ে বেশি মূল্যের জ্বালানি আমদানি করেছে।’

রাশিয়ার জব্দ করা সার্বভৌম সম্পদ ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার করি, তাহলে ইউক্রেনকে দেয়া মোট সহায়তার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি যুদ্ধের পরিস্থিতি বদলে দেয়ার মতো পদক্ষেপ হবে। আর ইউক্রেনের ঠিক এমন একটি পরিবর্তনই প্রয়োজন।’

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পর থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ এখনো রাশিয়া থেকে জ্বালানি পণ্য আমদানি করছে। এসব পণ্যের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)।

এছাড়া স্থলবেষ্টিত কয়েকটি দেশ, বিশেষ করে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি, পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থেকে পাওয়া বিশেষ ছাড়ের সুবিধা নিচ্ছে।

তবে রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রির এই হিসাবের মধ্যে তৃতীয় কোনো দেশে পরিশোধনের পর ইউরোপে পৌঁছানো রুশ জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত নয়। ভারত ও তুরস্কের মতো দেশগুলো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কিনে তা পরিশোধন করে অন্য দেশে সরবরাহ করে। ২০২২ সাল থেকে চীনের পাশাপাশি এসব দেশও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

গত শুক্রবার রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল আমদানির সুযোগ তৈরি করে একটি সমঝোতার ঘোষণা দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন জ্বালানির জন্য রাশিয়াকে ২৫০ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে, অথচ ভুয়া খবর প্রচারকারী সংবাদমাধ্যমগুলো এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। আমি সব সময় আমেরিকার জনগণের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি—সবার আগে আমেরিকা!’

এর আগে রোববার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে তাদের অবস্থানকে ‘ভণ্ডামি’ বলে উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার সমঝোতার সমালোচনা করলেও তারা নিজেরাই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারকে অর্থায়ন অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র : বাসস