ফ্যারিস, পুলিশ, গাজা, গণহত্যা, ইসলায়েল
আর্জেন্স প্যালেস্টাইন জোটের আহ্বানে ৭ অক্টোবরের স্মরণ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত একটি বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে প্যারিস পুলিশ প্রিফেকচার। নয়া দিগন্ত

গাজায় গণহত্যা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির দাবিতে ৭ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠেয় একটি ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ফরাসি পুলিশ। ‘আর্জেন্স প্যালেস্টাইন’ জোটের ডাকে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ বিক্ষোভ হওয়ার কথা ছিল। পুলিশের দাবি, ওই দিন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে প্যারিসে বিভিন্ন স্মরণ অনুষ্ঠান থাকায় বিক্ষোভ ঘিরে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisement

প্যারিস পুলিশ প্রিফেকচারের আদেশে বলা হয়, গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে ও যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মানের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভটি প্যারিসের ১৮তম আরোঁদিসমঁ বা প্রশাসনিক এলাকার শাতো রুজ থেকে জুল-জোফ্রাঁ পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে ফ্রান্সে বর্তমানে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। একই সাথে দেশটিতে ইহুদিবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডও উদ্বেগজনক মাত্রায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ৭ অক্টোবরের মতো সংবেদনশীল দিনে এ ধরনের বিক্ষোভ বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বিক্ষোভ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত বছরের ৭ অক্টোবর একই সংগঠনের ডাকা একটি বিক্ষোভের ঘটনাও নিষেধাজ্ঞার আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, ওই সমাবেশে ইসরায়েল, প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেয়া হয়েছিল। এসব স্লোগান ফ্রান্সের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছিল।

পুলিশের আশঙ্কা, এবারো একই ধরনের স্লোগান দেয়া হতে পারে। এতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই সমাবেশটি আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

তবে পুলিশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্স প্যালেস্টাইন। সংগঠনটি প্রশাসনিক আদালতে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানায়। তাদের বক্তব্য, গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদ ও যুদ্ধবিরতির দাবিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অধিকার তাদের রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ও সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায়। এএফপির সরকারি তথ্যভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলায় এক হাজার ২২১ জন নিহত হন। তাদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। হামলার সময় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এর জবাবে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ এসব পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।

৭ অক্টোবরকে সামনে রেখে প্যারিসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই দিনে একদিকে ইসরায়েলে নিহতদের স্মরণে কর্মসূচি, অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মসূচি থাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার যুক্তিতে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আয়োজকদের করা আপিলের পর আদালত কী সিদ্ধান্ত দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ৭ অক্টোবর বিক্ষোভটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কিনা।