
যুক্তরাজ্যের গ্লসস্টারশায়ারে রয়্যাল এয়ারফোর্সের বা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা উন্মোচনের পর সেখান থেকে নিজেদের সব বোমারু বিমান ফিরিয়ে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ঘাঁটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) জানায়, সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিক গ্রেপ্তারের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই তৎপরতা সামনে আসে। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলা তদন্তে এ পর্যন্ত মোট ছয়জনকে আটক ও পরে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার সাথে তেহরানের যোগসূত্রের অভিযোগ তুললেও ইরান তা অস্বীকার করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা রোববার বিমান সরিয়ে নেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন। মার্কিন পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানান, সামরিক নিরাপত্তার কারণে কৌশলগত পরিবর্তন সাথে সাথে প্রকাশ করা হয় না। তবে ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন করা সব বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।
ঘাঁটিতে থাকা ১২টি বি-ওয়ান বোমারু বিমানের মধ্যে অন্তত ১০টি রোববার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি বিমান মাত্র এক সপ্তাহ আগে নিয়মিত পর্যায়ক্রমে মোতায়েনের অংশ হিসেবে ফেয়ারফোর্ডে এসেছিল। এত অল্প সময়ে তড়িঘড়ি বিমান সরিয়ে নেয়ার ঘটনা থেকেই মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা ঝুঁকির তীব্রতা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি হওয়া নতুন ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকির কারণেই এই পদক্ষেপ। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তিন সপ্তাহ আগে যে হুমকির সতর্কতা ছিল, শেষ ২৪ ঘণ্টায় তা আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় কমান্ডাররা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেন।
লন্ডন থেকে ১০০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন 'আত্মরক্ষামূলক' হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফেয়ারফোর্ডের তৎপরতা আরো বেড়ে যায়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








