
বিশিষ্ট একজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষক, পাকিস্তানের একজন নারী আইনজীবী এবং নারী নেতৃত্বাধীন দু’টি অধিকার সংগঠন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘রাইট লাইভলিহুড’ পুরস্কার পেয়েছে। সুইডেন-ভিত্তিক এই মানবাধিকার পুরস্কারটি ‘বিকল্প নোবেল’ হিসেবে পরিচিত।
পুরস্কার বিজয়ীদের বাছাই করা বিচারকমণ্ডলী এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এআই গবেষক টিমনিট গেবরুকে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং ন্যায়বিচার, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ভিত্তিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির পথ দেখানোর’ জন্য এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।
গেবরু এআইয়ে পক্ষপাতের প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত। ২০১৭ সালে তিনি ‘ব্ল্যাক ইন এআই’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহ-উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন।
২০২০ সালে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের এথিক্যাল এআই দলের সহ-প্রধান থাকাকালে গেবরু তথাকথিত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলে (এলএলএম) পক্ষপাতের ঝুঁকি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্রের সহ-লেখক ছিলেন।
বিচারকমণ্ডলীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুগল তাকে ওই গবেষণাপত্র প্রত্যাহার অথবা নিজের নাম সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করেছিল। তিনি নির্দিষ্ট কিছু নিশ্চয়তা ছাড়া এতে রাজি না হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
এরপর গেবরু ‘ডিস্ট্রিবিউটেড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (ডিএআইআর) প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠান ‘প্রযুক্তি খাতে ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনকে চ্যালেঞ্জ করে এবং এআই ব্যবস্থা ইতোমধ্যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে, বিশেষ করে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার জনগোষ্ঠীর ওপর যে ক্ষতি করছে, তা তুলে ধরে’।
সুইডেন-ভিত্তিক রাইট লাইভলিহুড ফাউন্ডেশন পাকিস্তানের মানবাধিকার আইনজীবী জলিলা হায়দারকেও সম্মানিত করেছে। ‘কোনো মানুষই অবৈধ নয়’—এই বিশ্বাসকে ধারণ করে জাতিগত, রাষ্ট্রীয় ও পিতৃতান্ত্রিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং নিজ হাজারা সম্প্রদায়ের প্রথম নারী আইনজীবী হিসেবে প্রতিবন্ধকতা ভাঙার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।
ফাউন্ডেশনটি ‘রুরাল উইমেনস অ্যাসেম্বলি’কেও পুরস্কার দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ১১টি দেশের এক লাখ ৭৮ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র কৃষকের এই তৃণমূল আন্দোলনটি গড়ে উঠেছে গ্রামীণ নারীদের নিয়ে।
আয়োজকেরা বলেছে, করপোরেট ও পিতৃতান্ত্রিকভাবে জমি, বীজ ও নিজেদের শরীরের ওপর অধিকার কেড়ে নেয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গ্রামীণ নারীদের ‘ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে’ পরিণত করার জন্য সংগঠনটি কাজ করছে।
‘জর্জিয়ান ইয়াং লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (জিওয়াইএলএ)-কেও পুরস্কৃত করা হয়েছে। বিচারকমণ্ডলী সংগঠনটিকে ‘জর্জিয়ার সবচেয়ে পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
১৯৯৪ সালে স্বেচ্ছাসেবী আইনজীবীদের উদ্যোগে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এটি ‘জর্জিয়ার সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশক’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
বিচারকমণ্ডলী বলেছে, ‘স্বৈরতান্ত্রিক দমন-পীড়নের মুখেও জর্জিয়ার গণতন্ত্র গড়ে তোলা ও সুরক্ষা এবং নাগরিক শক্তি ধরে রাখার জন্য’ সংগঠনটিকে সম্মানিত করা হয়েছে।
রাইট লাইভলিহুড পুরস্কার চালু হয় ১৯৮০ সালে। সুইডিশ-জার্মান ডাকটিকিট সংগ্রাহক ইয়াকব ফন ইউক্সকুল নিজের সংগ্রহের একটি অংশ বিক্রি করে পুরস্কারটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে নোবেল পুরস্কারের পেছনে থাকা ফাউন্ডেশন পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রে নতুন পুরস্কার চালুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








