দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম সংখ্যার বিদেশী সম্পাদকীয়
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম সংখ্যার বিদেশী সম্পাদকীয়। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর নয়া দিগন্তের প্রথম সংখ্যায় ব্যতিক্রমী আয়োজনের অংশ হিসেবে ‘বিদেশী সম্পাদকীয় থেকে’ বিভাগ যুক্ত করা হয়। বিভাগটিতে ‘গোয়েন্দা তথ্য কিভাবে বাঁকা করতে হয়’ শিরোনামে বিদেশী পত্রিকা ‘The New York Times’ থেকে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। সম্পাদকীয়তে উঠে আসে– আমেরিকানদের ইরাক অভিযানে প্ররোচিত করতে বুশ প্রশাসন সিআইএ-র প্রকৃত তথ্যের বাইরে গিয়ে বানিয়ে অতিরঞ্জিত গোয়েন্দা রিপোর্ট তৈরি ও প্রচার করেছিল। লেভিনের রিপোর্ট অনুযায়ী, নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে চেনি ও রামসফেল্ডসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা জেনেশুনেই গোয়েন্দা তথ্যকে বিকৃত করেছিলেন।

Advertisement

আজ নয়া দিগন্তের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্পাদকীয়টি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

গোয়েন্দা তথ্য কিভাবে বাঁকা করতে হয়
The New York Times

সাদ্দাম হোসেনের বিপজ্জনক অস্ত্রশস্ত্র এবং ওসামা বিন লাদেনের সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ যে মিথ্যা তা অনেক আগেই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। নির্বাচন এগিয়ে আসার সাথে সাথে অবশিষ্ট প্রশ্নটি দাঁড়াচ্ছে— প্রেসিডেন্ট বুশের সঙ্গী-সাথীরা এ অভিযোগকে মিথ্যা জেনেও কেন ইরাক অভিযানের জন্য আমেরিকানদের প্রভাবিত করলেন।

সেনেট আর্মড সার্ভিস কমিটির সিনিয়র সদস্য মিশিগানের কার্ল লেভিন সম্প্রতি এক রিপোর্টে দেখিয়েছেন যে, প্রতিরক্ষা বিষয়ক নীতিমালার আন্ডার সেক্রেটারি ডগলাস ফেইথের অফিসে মি. বুশ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ইরাক-আল কায়েদা সম্পর্কের বিষয়ে যে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন তা ছিল অতিরঞ্জিত।

মি. লেভিনের রিপোর্ট এটি প্রমাণ করে না যে, প্রেসিডেন্ট বুশ হোসেন-বিন লাদেন মৈত্রীর রূপকাহিনী সম্পর্কে জানতেন। কিন্তু কর্মকর্তা যেমন- প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেন্ড এবং তার সহকারী পল উলফোউইটজ-এর মতো মি. চেনির চিফ অব স্টাফ এবং সহকারী জাতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পুরো গোয়েন্দা বিভাগের দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে বৈদৃশ্যমূলক মি. ফেইথের বানানো উপসংহারের ব্যাপারে জ্ঞাত ছিলেন। মি. চেনি ইরাক ও আল কায়েদা বিষয়ক ঐসব কাগজপত্র নিশ্চিত প্রমাণ বলে জনগণের সামনে উপস্থাপন করেন।

গোয়েন্দা তথ্যকে কিভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচীর সাথে খাপ খাওয়ানো হয় মি. লেভিনের রিপোর্ট তার উজ্জ্বল প্রমাণ। ইরাক যুদ্ধ বিষয়ে জনগণকে যেসব তথ্য প্রমাণ দেখানো হয়েছে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে অস্বীকার করেছে এ প্রশাসন।

এ রিপোর্টে মি. রামসফেন্ড পরিচালিত গোয়েন্দা তৎপরতা উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, মি. বুশ ক্ষমতা গ্রহণের অনেক আগেই মি. রামসফেন্ড ইরাক আক্রমণের পক্ষে ছিলেন এবং ১১ সেপ্টেম্বরের পরে তিনি সিআইএ'র কাছে থাকা তথ্যের চেয়েও বাগদাদের ব্যাপারে বেশি প্রমাণ দাবি করছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত