
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সানায়ে তাকাইচির সাথে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জাপানের সাথে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম শিল্প ও কৌশলগত অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবীর বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।
বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম শিল্প খাতের প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার ওপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। একইসাথে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ মসৃণ ও টেকসই করতে জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময় চেয়েছে।
এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর জানান, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ে একটি যৌথ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করা এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
পাশাপাশি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পনগরী গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন স্থানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্পে জাপানের আগ্রহ রয়েছে।
জাপানের কাছ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা হিসেবে ৫০০ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আগ্রহ বাড়ছে।
এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো সেই আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দেয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকালে জাপানের জ্বালানি অবকাঠামো ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে।
বিশেষ করে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং আধুনিক লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে।
জাপানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে একটি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী বছর বহুপক্ষীয় কূটনীতির বিভিন্ন কার্যক্রমেও রোহিঙ্গা ইস্যুকে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাপানের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামগ্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আন্তরিক পরিবেশে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেসসচিব শাহাদাৎ স্বাধীন। সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








