
রাজধানীতে বিশেষ কায়দায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে চুরির ঘটনায় জড়িত চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে বিশেষ কৌশলে লক ভাঙার দু’টি লোহার চাবি ও চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ মোট নয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো: আকতার হোসেন।
গ্রেফতাররা হলেন রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেল (৩০), মো: আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বি (৩০), ফয়সাল (২৫), সৌরভ (২২), জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু (২৯) ও মোজাম্মেল হক মাসুম (২২)।
ডিবি-লালবাগ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টায় মোহাম্মদপুর সলিমুল্লাহ রোডের বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে এক ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলটি লক করে আসরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে প্রবেশ করেন। এই সুযোগে চোর চক্রের সদস্যরা বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি ব্যবহার করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লক ভেঙে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে চুরির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হলে তা গোয়েন্দা বিভাগের নজরে আসে। ডিবি-লালবাগ বিভাগের সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম দ্রুত ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোর চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, সবুজবাগ থানাধীন নন্দীপাড়া ও মাদারটেক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেলকে দু’টি বিশেষ চাবি ও একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানাধীন সাদ্দাম মার্কেটের সামনে থেকে আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বিকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ ফয়সাল ও সৌরভকে গ্রেফতার করা হয়। নোয়াখালীর চাটখিল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আরো তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু ও মোজাম্মেল হক মাসুমকে গ্রেফতার করা হয়। চুরির ঘটনায় ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার রাসেল ও রাব্বি জানায়, তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে একই কৌশলে মোটরসাইকেল চুরি করে কুমিল্লার লাকসামের ফয়সাল, সৌরভ ও নোয়াখালীর চাটখিলের পাপ্পু ও মাসুমের কাছে সরবরাহ করতো।
গ্রেফতার রাসেলের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির ১৫টি মামলা এবং আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বির বিরুদ্ধে সাতটি চুরির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া রাসেলের বিরুদ্ধে একটি জিআর সাজা পরোয়ানা এবং রাফির বিরুদ্ধে দুটি জিআর পরোয়ানা মুলতবি রয়েছে।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান উপ-পুলিশ কমিশনার মো: আকতার হোসেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








