
সরকারি দরপত্র নিজের অনুকূলে নিতে চাপ এবং আপত্তি জানালে প্রকল্প পরিচালককে থাপ্পড় মেরে ‘শিক্ষা দেয়ার’ হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর জামান মিন্টু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
বুধবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে কর্মকর্তার সাথে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে তার দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করছেন অনেকে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের পরিচালক মোস্তফা কামাল নয়া দিগন্তকে বলেন, একটি ইলেকট্রনিক দরপত্র নিজেদের দেয়ার জন্য চাপ দেন মিন্টু ও তার সাথে আসা আরেক ব্যক্তি। নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রে অংশ নিয়ে কারিগরি ও আর্থিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হলে কাজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানালেও তারা তা মানতে রাজি হননি।
তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি জোর করে দরপত্র নিতে চাইছিলেন। তার কথা ছিল, তাকে দরপত্র দিতে হবে। না দিলে থাপ্পড় মারবেন, শিক্ষা দেবেন- এ ধরনের কথা বলছিলেন।’
প্রকল্প পরিচালকের ভাষ্য, বুধবার দুপুরে তার কক্ষে ঢুকে মিন্টু চলমান একটি দরপত্র তাকে দেয়ার দাবি জানান। এটি ইজিপির (e-GP) মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) আহ্বান করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হবে বলে তিনি জানান। কিন্তু মিন্টু একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে একজনের সাথে কথা বলেন। ফোনটি লাউড স্পিকারে থাকায় অপর প্রান্ত থেকে তাকে গালিগালাজ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দরপত্রের কারিগরি শর্ত নিয়ে বিরোধের বিষয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহের ক্ষেত্রে আইআরসি (ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট) সনদ চাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। তার দাবি, দরপত্রের কারিগরি স্পেসিফিকেশন গণপূর্ত অধিদফতরের (পিডব্লিউডি) নির্ধারিত। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে।
তিনি বলেন, মিন্টুকে কক্ষ থেকে চলে যেতে বলার পরই তাকে থাপ্পড় মেরে ‘শিক্ষা দেয়ার’ মতো কথা বলা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ১টা ৪২ মিনিট থেকে ১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত মিন্টু ওই কক্ষে অবস্থান করেন। এ সময় দরপত্রের শর্ত নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
তার অভিযোগ, মিন্টুর সাথে আসা ব্যক্তিরা অন্যের দরপত্র কিনে দেয়া বা মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে কাজ করতে পারেন। তবে তারা কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এসেছিলেন, তা স্পষ্ট করেননি প্রকল্প পরিচালক।
অভিযোগ অস্বীকার করেন হাসানুর জামান মিন্টু। তিনি বলেন, পিডির টেন্ডার দেয়ার ক্ষমতা আছে। আমি তাকে থাপ্পড় দিতে যাইনি।
এর আগে, গত ১১ মার্চ ডিএইর তিন কর্মকর্তার সাথে দুর্ব্যবহার, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম মজুমদার এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে ডিএইর মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেন।
মোস্তফা কামালের কক্ষের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তার সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করছেন। একজন লিখেছেন, ‘পিডি স্যার পুরাই আগুন।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘অফিসার এরকম হওয়া উচিত। তবেই ঠিকাদারেরা সোজা হবে।’
মোস্তফা কামাল বলেন, দরপত্র নিয়ে মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু সে জন্য কোনো কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়া বা দুর্ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের চাপ ও হুমকি কর্মকর্তাদের কাজ করা কঠিন করে তোলে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








