শাহজাহানপুরে হত্যা, জমি বিরোধে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা, হত্যা, মামলা, গ্রেফতার
গ্রেফতারের প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

রাজধানীর শাহজাহানপুরে জমি ও বাড়ির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ফখরুল হাসান ফরহাদ (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বড় বোন ও বোনজামাতার বিরুদ্ধে। 

Advertisement

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে উত্তর শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ গলির একটি বাড়ির ছাদের সেমিপাকা ঘর থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহতের ছোট বোন নার্গিস সুলতানার ভাষ্য, বাড়িটির প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা তার বড় বোন নুর আফসানা নিপার এবং চতুর্থ তলা তার নিজের। আর্থিক সঙ্কটের কারণে ভাই ফখরুলকে বাড়ির ছাদে দুটি টিনশেড ঘর তৈরি করে থাকতে দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে স্ত্রী সাদিয়া আক্তার শম্পাকে নিয়ে থাকতেন ফখরুল। তিনি হৃদরোগ ও পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ছিলেন। তার স্ত্রী একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাদের কোনো সন্তান নেই।

নার্গিস জানান, বড় বোন ফখরুলের কাছ থেকে গ্যাস ও পানির বিল আদায় করতেন। অসুস্থতা ও আর্থিক সঙ্কটের কারণে ২০১৭ সালের পর থেকে বিল দিতে না পারায় ভাইয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো এবং ফখরুল ও তার স্ত্রীকে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলা হতো। চলতি বছরের আগস্টের পর থেকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চাপ আরো বেড়ে যায়।

তিনি আরো জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে ফখরুলের স্ত্রী তাকে বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং বাড়ির নিচতলা থেকে ফখরুলের বড় বোনকে আটক করেন।

নার্গিসের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে বড় বোনের স্বামী আবদুস সামাদ সুজনকে হেলমেট পরা অবস্থায় বগলের নিচে ধারালো চাপাতি নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে অভিযান চালিয়ে সুজনকেও গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।

শাহজাহানপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান জানান, জমি ও বাড়ির মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এর জের ধরে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে ফখরুলের ঘরে ঢুকে তার বড় বোন ও বোনজামাই তাকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় নুর আফসানা নিপা ও আবদুস সামাদ সুজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে পুলিশ।