ভারত, নিউজিল্যান্ড, ক্রিকেট, বিশ্বরেকর্ড
আজ শুরু থেকেই তাণ্ডব চালান অভিষেক ও সূর্যবংশী, পরে শতক হাঁকিয়ে অভিনব উদযাপন করেন অভিষেক শর্মা। ক্রিকইনফো

১৯৯ রানের লক্ষ্য। টি-টোয়েন্টিতে যা মোটেও ছোট নয়। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে সব হিসাব বদলে দেন ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশী। তাদের ব্যাটে মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ভারত।

Advertisement

নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর যেন ঝড় তোলেন অভিষেক-সূর্যবংশী, ৭.১ ওভারের উদ্বোধনী জুটিতেই যোগ করেন ১৩৩ রান। ম্যাচ গড়ায় একপেশে পরিণতির দিকে। হেসেখেলে ৬ উইকেটে জিতে যায় ভারত।

ওয়েলিংটনে মঙ্গলবার প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৮ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। জবাবে মাত্র ১৩.২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ভারত। হাতে তখনো ৪০ বল। আর তাতেই একাধিক বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখায় সফরকারীরা।

রান তাড়ায় সাঞ্জু স্যামসনের জায়গায় সুযোগ পাওয়া বৈভব শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী। জ্যাকব ডাফির প্রথম বলেই চার মেরে শুরু করেন। ওই ওভারেই অভিষেকও যোগ দেন তাণ্ডবে—ভারত তুলে নেয় ২৬ রান। 

দ্বিতীয় ওভারে অ্যাডাম মিলনের কাছ থেকে আসে আরো ১৭। এরপর মিচেল ব্রেসওয়েলের ওভারের প্রথম দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে দলীয় রান ৫০ পার করে দেন অভিষেক। মাত্র ২.২ ওভারেই ৫০ রান পূর্ণ করে ভারত। 

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে এটিই দ্রুততম দলীয় ফিফটি। একই সময়ে পানামা, রোমানিয়া ও মালয়েশিয়াও ৫০ রানে পৌঁছেছিল, তবে তারা আইসিসির পূর্ণ সদস্য নয়।

সেখানেই থামেনি ভারত। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১১৮ রান তোলে তারা—আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ছয় ওভারে সর্বোচ্চ দলীয় রানের নতুন রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার, ১১৩ রান।

অভিষেক ও বৈভবের উদ্বোধনী জুটিও গড়েছে আলাদা রেকর্ড। ৭.১ ওভারে ১৩৩ রান তুলে তাদের রানরেট দাঁড়ায় ১৮.১৩। ১০০ বা তার বেশি রানের উদ্বোধনী জুটিতে এটিই সর্বোচ্চ রানরেট। আগের রেকর্ড ছিল জস বাটলার ও ফিল সল্টের—১৬.০৮।

ব্যক্তিগত রেকর্ডেও দিনটি স্মরণীয় করে রেখেছেন অভিষেক। মাত্র ৩৫ বলে শতক পূর্ণ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের দ্রুততম শতকের রেকর্ডটি অবশ্য ৩০ বলে। আর সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার সেঞ্চুরি হলো চারটি।

আর টি-টোয়েন্টির সব ধরনের ম্যাচ মিলিয়ে অভিষেকের শতক এখন ১১টি। এই তালিকায় তিনি উঠে এসেছেন তিন নম্বরে। তার সামনে বাবর আজমের ১৩ ও ক্রিস গেইলের ২২টি শতক।

ছক্কার বন্যাও ছিল অভিষেকের ব্যাটে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১১টি ছক্কা মেরে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। প্রথম স্থানেও আছেন তিনি (১৩টি ছক্কা)।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে ১০টির বেশি ছক্কা হাঁকানোর কীর্তিও এখন অভিষেকের। যদিও ম্যাচ জিতিয়ে ফেরা হয়নি তার, ১০ম ওভারের শেষ বলে এসে কাইল জেমিসনের শিকার হন তিনি।

তবে উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছিল বৈভবের বিদায়ে। ৪৩ বলে ৭৮ রান করে আউট হন এই ব্যাটার। এরপর অবশ্য দ্রুত ফেরেন শ্রেয়াস আইয়ার (১), সঞ্জু স্যামসন (১৮)।
তাতেও অবশ্য ভারতের জয় নিয়ে কোনো সংশয় তৈরি হয়নি। 

১৯০-এর বেশি রান তাড়ায় বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডেও ভারত উঠে এসেছে নতুন উচ্চতায়। ১৯২ রান তাড়া করে ৪২ বল হাতে রেখে জয়ের রেকর্ডটি এখনো এস্তোনিয়ার দখলে। তবে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মাঝে ১৯৯ রান তাড়া করে ৪০ বল হাতে রেখে জয় কেবল ভারতের। 

এর আগে নিউজিল্যান্ড বড় সংগ্রহ গড়েছিল ডেরিয়েল মিচেন ও ফিন অ্যালেনের ব্যাটে। অ্যালেন ২৫ বলে ৪০ ও মিচেল ৫২ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ২৩ বলে ৩৯ রান আসে বেভন জন জ্যাকবসের ব্যাটে। তাতেই দুই শ’র কাছাকাছি পৌঁছায় কিউইরা।