বিসিবি সভাপতি তামিম, বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট, বড় রান তাড়া, ৩০০ থেকে ৩৫০ রান, ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেট, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, ক্রিকেটারদের বিশেষ অনুশীলন
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ৩৫০ পেরোনো রান এখন হরহামেশাই দেখা মেলে। তবে বাংলাদেশ এখনো সেই পর্যায়ে যেতে পারেনি। পিছিয়ে আছে যুগ থেকে। তবে এর দায় কেবল ক্রিকেটারদের নয়, নিজেদের ব্যর্থতাও দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

Advertisement

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর প্রস্তুতির এই ঘাটতিই সামনে এনেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি জানিয়েছেন ‘ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করার প্রক্রিয়ায় নিজেদের কোনো ভুল আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে বোর্ড।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ফিরেছে খালি হাতে। এমতাবস্থায় রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় দল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার সভা করেন তামিম।

সভায় কোচিং স্টাফ, জাতীয় দলের অধিনায়ক, নির্বাচক কমিটির সদস্য এবং হাইপারফরম্যান্স, গেম ডেভেলপমেন্ট ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের কোচ-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে তামিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেকোনো ব্যর্থতার জন্য শুধু খেলোয়াড়দের দিকে আঙুল তোলার আগে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে বুঝতে চেয়েছি, আমাদের কোনো ভুলের জন্য তারা খারাপ খেলছে কি না, তাদের ওয়ানডের জন্য প্রস্তুত করায় প্রক্রিয়াগত কোনো ভুল আছে কি না।’

বড় রান তোলা ও তাড়া করার অভ্যাস গড়ে তুলতে ঘরোয়া ক্রিকেটের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন বিসিবি সভাপতি। তার মতে, জাতীয় দল ওয়ানডেতে ৩০০ থেকে ৩৫০ রান করুক কিংবা এই লক্ষ্য তাড়া করুক—এমন প্রত্যাশা থাকলেও ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সে ধরনের ম্যাচ খুব বেশি হয় না।

তামিমের ভাষায়, ‘ধরুন, আমরা চাই আমাদের জাতীয় দল ওয়ানডেতে ৩০০ থেকে ৩৫০ করুক, ৩০০ থেকে ৩৫০ রান তাড়া করুক। কিন্তু ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে কি তারা সেটা করছে? খুব বেশি হলে প্রতি মৌসুমে এ রকম দুই-তিনটা ম্যাচই হয়, যেখানে এত রান তাড়া করতে হয়। এখন ঘরোয়া ক্রিকেটেই যদি তাদের এই চর্চাটা না থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গিয়ে কিভাবে করবে!’

এই ঘাটতি কাটাতে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের নিয়ে বিশেষ অনুশীলনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি। প্রস্তাবিত সেশনে ছয়-সাতজন ব্যাটসম্যানকে ৩২০ থেকে ৩৫০ রানের লক্ষ্য দেয়া হবে।

৫০ ওভারের মধ্যে সেই রান তোলার চেষ্টা করবেন ব্যাটসম্যানরা, আর বোলারদের কাজ হবে তাদের আটকে রাখা। জাতীয় দলসহ সব পর্যায়ের দলের অনুশীলনে এমন সেশন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের।

বড় রান তোলা ও তাড়া করার অভ্যাস তৈরি, ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতি বাড়ানো এবং খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা—সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের উন্নতির পথ খুঁজছে বিসিবি।

উল্লেখ্য, বিসিবি সভাপতির সাথে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। ছিলেন কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ, নির্বাচক ও টিম ম্যানেজারও।