ক্রিকেট
অবিশ্বাস্য জয়ের পর খেলোয়াড়দের উল্লাস। নয়া দিগন্ত

জয়ের জন্য একদিকে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৮৮ রান, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের চাই মাত্র ১ উইকেট। ম্যাচ একদিকে হেলে পড়েছিল অনেকটাই। কিন্তু সেখান থেকেই সব হিসাব ওলটপালট করে দেন শাদাব খান। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে দলকে এনে দেন অবিশ্বাস্য এক জয়।

Advertisement

রোববার (২৫ অক্টোবর) লাহোরে জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য ছিল ২৪২ রান। কিন্তু রান তাড়ার মাঝপথেই ভেঙে পড়ে দলটির ব্যাটিং। ৩১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর স্কোর দাঁড়ায় ১০৩ রানে ৬ উইকেট। এরপর ১৫৪ রানেই সাজঘরে ফিরে যান নবম ব্যাটার। 

ম্যাচ তখন ইংল্যান্ডের মুঠোয় আর পাকিস্তানের সামনে পরাজয় যেন সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু শাদাব খানের ভাবনায় ছিল অন্য কিছু। শেষ ব্যাটার হারিস রউফকে সাথে নিয়ে শুরু করেন অবিশ্বাস্য এক লড়াই। বদলে দেন ম্যাচের চিত্র। 

দশম উইকেটে দু’জন মিলে যোগ করেন অপরাজিত ৮৯ রান, যা ওয়ানডেতে শেষ উইকেটে সফল রান তাড়ায় সর্বোচ্চ রানের জুটি। দারুণ সঙ্গ দিয়ে হারিস রউফ অপরাজিত থাকেন ১৯ বলে ৭ রান করে। শাদাব তুলে নেন সেঞ্চুরি। 

শাদাবের ব্যাটে আসে অপরাজিত ১১৩ রান। মাত্র ৯৬ বলের ইনিংসটি সাজানো ১৩টি চার ও ৫টি ছক্কায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে আট নম্বর বা তার নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়েছেন পাকিস্তানি এই অলরাউন্ডার।

শেষ দিকে নাটকীয়তাও কম হয়নি। জয়ের জন্য যখন ২১ রান দরকার, তখন শাদাবের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করে ইংল্যান্ড। রিভিউতে দেখা যায়, বল ব্যাটে লেগেছিল। ৯৭ রানে জীবন ফিরে পেয়ে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান তিনি। 

৪৭তম ওভারে অ্যাটকিনসনের বলে চার মেরে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর একই ওভারে আরো একটি চার ও ছক্কা হাঁকান শাদাব। পরের ওভারের প্রথম বলেই জয়ের আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণ করেন হারিস রউফ। ১৭ বল হাতে রেখেই ১ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় পায় পাকিস্তান।

অথচ পাকিস্তানের রান তাড়ার শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ফখর জামান ১০, সাইম আইয়ুব ৬ ও বাবর আজম ১০ রান করে ফিরে যান। পাওয়ারপ্লের মাঝেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। ৩১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর সাদ বেগের ২২ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। 

তবে তার বিদায়ের পরও বিপদ কাটেনি। সালমান আগা আউট হন ২৬ রান করে, হাসান নেওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ১৫। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে আবারো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে স্বাগতিকরা। ১০৩ রানে ৬ উইকেট হারালে মাঠে আসেন শাদাব। 

তখনো জয়ের জন্য অনেক পথ বাকি। একে একে সালমান আলী আগা, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও রাজাউল্লাহ ফিরে গেলে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ১৫৪ রানে ৯ উইকেট। এরপরই শুরু শাদাব ও হারিস রউফের অবিশ্বাস্য লড়াই।

সফল ওয়ানডে রান তাড়ায় শেষ উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির আগের রেকর্ড ছিল ১৯৭৫ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডেরিক মারে ও অ্যান্ডি রবার্টসের ৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ৫১ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে দেন শাদাব ও হারিস (৮৯)।

এর আগে ইংল্যান্ডের ইনিংসে লড়াইয়ের মূল নায়ক ছিলেন বেন ডাকেট। ১১১ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। স্যাম কারানের সাথে মিলে গড়েন ৯৩ রানের জুটি। কারান করেন ৪২ রান, আর শেষ দিকে গাস অ্যাটকিনসনের অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে।

৪৬.৪ ওভারে ২৪১ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের হয়ে ৪৬ রানে ৪ উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। দুই উইকেট করে পান রাজাউল্লাহ ও আরাফাত মিনহাস। ইংল্যান্ডের হয়ে জেমি ওভারটন নেন ৩ উইকেট, লিয়াম ডসন ২টি।

এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল পাকিস্তান। অন্যদিকে তিন ম্যাচেই হেরে বিদায়ঘণ্টা বাজল ইংল্যান্ডের।