ত্রিদেশীয় সিরিজ, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, তাওহীদ হৃদয়
তাওহীদ হৃদয়। সংগৃহীত

জিম্বাবুয়ের পর আফগানিস্তানের কাছেও বড় হারে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় নেয়ার পর ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলেন তাওহীদ হৃদয়। বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সরাসরিই বললেন, ‘সত্যি বলতে আমরা একই ভুল বারবার করছি।’

Advertisement

শারজাহতে বুধবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৪১.২ ওভারে মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় দল। সেই রান আফগানিস্তান পেরিয়ে যায় ৩৫.৩ ওভারেই, ৮৭ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখেই।

ম্যাচ শেষে হৃদয়ের কণ্ঠেও ছিল হতাশা। ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতাকেই হারের মূল কারণ হিসেবে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং ইউনিট আবারো ভুল করেছে। শুরুতেই আমরা কিছু উইকেট হারিয়ে ফেলি, এটাই হারের মূল কারণ। এটা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। তবে টপ অর্ডারের কলাপ্সই মূল কারণ।’

দুই ম্যাচেই ব্যাটারদের ব্যর্থতায় পুরো দলকে ভুগতে হয়েছে বলেও মনে করেন হৃদয়। তার দাবি, এই দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং থেকে অন্তত আরো ১০০ রান আসা উচিত ছিল। 

তিনি বলেন, ‘৪০-৫০ রান না। আমরা অন্তত ১০০ রান কম করেছি। এটা ব্যাটিংয়ের জন্য খুবই ভালো উইকেট। টপ অর্ডার থেকে বড় রান করতে হবে।’

বাংলাদেশের সমস্যাটা শুধু স্কিলে নয়, মানসিকতাতেও দেখছেন হৃদয়। বিশেষ করে দেশের বাইরে খেলার সময় ব্যাটিং ইউনিটের মানিয়ে নেয়ার ঘাটতিই বড় হয়ে উঠছে বলে মনে করেন তিনি। 

‘সমস্যা মাইন্ডসেটে। এখানে উন্নতির দরকার আছে। প্রফেশনাল প্লেয়ার হিসেবে বাইরের কন্ডিশনে মানিয়ে নেয়া জরুরি,’ বলেন এই ব্যাটার।

পরিসংখ্যানও বলছে একই কথা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচ ওয়ানডের সবকটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। চলমান সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছেও প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানে হেরেছিল তারা। ফলে দুই ম্যাচেই হার দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হয়েছে বাংলাদেশের।

তবে এই ব্যর্থতায় পুরো দলকে ভেঙে পড়তে দেখছেন না হৃদয়। তার মতে, পাইপলাইনে যথেষ্ট খেলোয়াড় আছে এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও রয়েছে। সামনে এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো বড় আসর থাকায় এই সিরিজের ভুলগুলো থেকেই শিক্ষা নেয়ার কথা বলেছেন তিনি।

হৃদয় বলেন, ‘এই সিরিজ থেকে শিক্ষা নেয়ার অনেক কিছু আছে। ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ে আমাদের উন্নতি করতে হবে। তবে আমাদের হাতে সময় আছে। এশিয়া কাপ আবার আমাদের দেশেই হবে, আশা করি আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’