ত্রিদেশীয় সিরিজ, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কোচ, রিচার্ড পাইবাস, সংবাদ সম্মেলন
সংবাদ সম্মেলনে আফগান কোচ রিচার্ড পাইবাস। সংগৃহীত

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানে হারের পর, আফগানিস্তানের কাছেও অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে শেষ ৫ ওয়ানডের ৪টিতেই হেরেছে টাইগাররা। হারের চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা হারের ধরন নিয়ে। কোনো লড়াই করতে পারছে না ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

Advertisement

বাংলাদেশের বিপক্ষে বুধবার রাতে ১৬০ রান তাড়া করতে নেমে ৮৭ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় পায় আফগানরা। এই জয়ে অপরাজিত থেকেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠেছে তারা। 

ওয়ানডেতে ব্যর্থতার বৃত্তে আটকা বাংলাদেশ দল যখন দিশেহারা, তখনই আশার পুরোনো ছবিটা সামনে আনলেন আফগানিস্তানের কোচ রিচার্ড পাইবাস। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার প্রসঙ্গ উঠলে পাইবাস মনে করিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া সেই ঐতিহাসিক জয়ের কথা।

পাইবাস বলেন, ‘এখানে আসার আগে তারা অস্ট্রেলিয়াতে দারুণ একটি জয় পেয়েছে, ঐতিহাসিক জয় ছিল। কোচ হিসেবে বিভিন্ন ধাপে আমাদের কাজ করতে হয়। বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন স্কোয়াড নিয়ে কাজ করতে হয়। অস্ট্রেলিয়াতে বাংলাদেশের জয়টা তাদের তৈরি করা বেঞ্চমার্ক ছিল।’

পাইবাস পাত্তা না দিলেও ওয়ানডেতে অবশ্য সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না টাইগারদের। দেশের বাইরে সর্বশেষ ১৬ ওয়ানডের ১৪টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজেও আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে কোনো জয় ছাড়াই বিদায় নিয়েছে তারা।

বাংলাদেশের এমন কঠিন সময়কে অবশ্য ক্রিকেটের স্বাভাবিক চক্রের অংশ হিসেবেই দেখছেন পাইবাস। ভারতের বিপক্ষে নিজেদের ম্যাচ থেকেও শিক্ষা নেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ভারতের বিরুদ্ধে খেলেছি, তখনো নিজেদের সেরাটা দিতে চেয়েছিলাম। সেখান থেকেও আমরা কিছু শিক্ষা নিয়েছি। ক্রিকেট দলগুলোকে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতেই হয়।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রেকর্ডও সুখকর নয়। সর্বশেষ পাঁচ ওয়ানডেতে আফগানদের হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে আগের চার ম্যাচে আফগানদের কোচ ছিলেন জোনাথন ট্রট। এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিপক্ষে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন পাইবাস।

সেই প্রসঙ্গে পাইবাস বলেন, ‘আগের ৪ ম্যাচ নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, কারণ তখন আমি এই দলের কোচ ছিলাম না। এই ম্যাচ নিয়ে বলতে গেলে, পাওয়ারপ্লেটা মিশ্র ধরনের ছিল। কিছুটা বিশৃঙ্খল বোলিং হয়েছে আমাদের। এর সাথে দারুণ বোলিংও ছিল। ম্যাচটা আমরা নিজেদের হাতে রেখেছি।’

বাংলাদেশকে সমালোচনার দিকেও যেতে চাননি আফগান কোচ। বরং ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের বোলারদের প্রশংসাই করেছেন তিনি। তার মতে, শুরুতে ভালো বোলিং করলেও পরে আফগানিস্তান ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

অন্যদিকে নিজেদের শক্তির জায়গা হিসেবে স্পিন আক্রমণ ও ফিল্ডিংয়ের কথা তুলে ধরেছেন পাইবাস। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী ও এ এম গাজানফারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্পিন আক্রমণকে সামলানো বেশ কঠিন কাজ। রশিদ একজন শিকারী বোলার। তার নিয়ন্ত্রণ দুর্দান্ত। চাপের মধ্যেও ভালো করতে পারে। এর সাথে নবী ও এ এম গাজানফারও দুর্দান্ত ছিল।’

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আগামী ২৩ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। অন্যদিকে দুই ম্যাচেই হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই টুর্নামেন্ট শেষ করেছে বাংলাদেশ। এবার ফাইনালের আগেই দেশে ফিরতে হচ্ছে তাওহীদ হৃদয়দের।