
ত্রিদেশীয় সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন কঠিন পরীক্ষা। জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের হার দলকে ঠেলে দিয়েছে খাদের কিনারে। আজ বুধবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারলেই শেষ হয়ে যাবে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন।
এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেদের ভুলগুলো স্বীকার করে ব্যাটারদের দায়িত্ব নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। তার মতে, বড় লক্ষ্য তাড়া করতে হলে একসাথে অনেক রান ভাবার বদলে ছোট ছোট লক্ষ্য ধরে এগোতে হবে। চাপের মুহূর্তে উইকেট ধরে রেখে গড়তে হবে জুটি।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতার সেই ম্যাচে ৪৬ রান করেছিলেন তানজিদ। কিন্তু নিজের ইনিংসটিও লম্বা করতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে তার।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এই ওপেনার স্বীকার করেছেন, জয়ের মতো অবস্থায় থেকেও দায়িত্ব নিতে পারেননি ব্যাটাররা। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ব্যাটিং ইউনিটে দায়িত্ব নিতে পারিনি। উইকেট যথেষ্ট ভালো ছিল। আমার কাছে মনে হয় এই রান তাড়া করার মতো ছিল।’
নিজের ইনিংস নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, অন্তত ২০-২৫ ওভার ব্যাট করতে পারলে দলকে ভালো অবস্থানে নেয়া সম্ভব হতো। সামনে এমন পরিস্থিতিতে নিজের দায়িত্ব পালনের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
শুধু ব্যক্তিগত ইনিংস বড় করা নয়, জুটি গড়তে না পারাকেও হারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তানজিদ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপ সামলানোর উপায় হিসেবে উইকেটে টিকে থাকা ও পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাই শুরু থেকেই উইকেট বিলিয়ে না দিয়ে ধৈর্য ধরে এগোনো বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। সেই সাথে বড় লক্ষ্য তাড়া করার মানসিকতা নিয়েও কথা বলেছেন তানজিদ।
তার মতে, ৩০০ কিংবা ৩৫০ রানের কথা একসাথে চিন্তা না করে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করলে ব্যাটারদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, তিন শ’ বা সাড়ে তিন শ’ না ভেবে ছোট ছোট টার্গেট করে খেলি তাহলে জিনিসটা সহজ হবে।
জিম্বাবুয়ের কাছে হারের ব্যাখ্যায় তানজিদ বলেন, বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেনি, প্রতিপক্ষ তাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। তাই জিতেছে জিম্বাবুয়ে। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে হলে দলের ব্র্যান্ডের ক্রিকেটে ফিরতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর চেষ্টাও চলছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সাথে বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তানজিদ। তার ভাষ্য, ভালো কিংবা খারাপ- সবসময়ই বিসিবি দলের পাশে থাকে।
তানজিদ বলেন, ‘আমরা একটা পরিবারের মতো। কেউই চায় না পরিবারের ভেতরে নেগেটিভ কোনো কিছু তৈরি হোক।’
প্রতিপক্ষের নাম না দেখে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভালো প্রস্তুতি, মনোযোগ এবং সব বিভাগে দলীয় পারফরম্যান্সের ওপর গুরুত্ব দেয়ার বার্তাও পেয়েছেন তারা।
এখন সেই বার্তা মাঠে কাজে লাগানোর পালা। আফগানিস্তান ইতোমধ্যে জিম্বাবুয়েকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে হেরে চাপে বাংলাদেশ। তাই শুধু জয় পেলেই হবে না, ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে রান ব্যবধান ও নেট রান রেটের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তানজিদদের সামনে সমীকরণ কঠিন, তবে নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ এখনো আছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতেই বিকেল সাড়ে ৫টায় শারজায় মাঠে নামবে তাওহীদ হৃদয়ের দল।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








