
৯১ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ৩০৩ রানের লক্ষ্যটা ইংল্যান্ডের জন্য কঠিন কিছু মনে হচ্ছিল না। কিন্তু সেই জুটি ভাঙতেই বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। একের পর এক উইকেট হারিয়ে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল ইংল্যান্ডের ব্যাটিং।
আর সেই ধসের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন পাকিস্তানের আরাফাত মিনহাস—বল হাতে একাই নিলেন ৬ উইকেট। তাতে মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে ৮৭ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান।
এদিনে আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮১ রানেই ৪ উইকেট হারায় পাকিস্তান। তবে এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে ৯ উইকেটে তোলে ৩০২ রান। জবাবে ৩৮.৪ ওভারে ২১৫ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড।
পাকিস্তানের জয়ের মূল নায়ক অবশ্যই মিনহাস। সাত নম্বরে নেমে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা পান। ৫৮ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। এরপর বল হাতেও ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৪০ রানে নেন ৬ উইকেট।
একই ম্যাচে ফিফটি ও পাঁচ উইকেটের কীর্তি পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনারদের মাঝে প্রথম মিনহাসের। পাকিস্তানের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। এর আগে শাহিদ আফ্রিদি তিনবার ও আবদুর রাজ্জাক একবার এ কীর্তি গড়েছিলেন।
বিশ্বের বাঁহাতি স্পিনারদের মাঝে মিনহাসের আগে সর্বশেষ এই ‘ডাবল’ করেছিলেন সাকিব আল হাসান। ২০১৯ বিশ্বকাপে সাউদাম্পটনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এ কীর্তি গড়েছিলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার।
তবে পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটা ছিল একেবারেই বিপর্যস্ত। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই আউট হন ফখর জামান (০)। সনি বেকারের বাউন্সারে ফিরে যান সাইম আইয়ুবও (৮)। এরপর বাবর আজম ৩৪ ও সালমান আগা আউট হন ১৬ রান করে।
১৯তম ওভারে ৮১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন বেশ চাপে স্বাগতিকরা। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন হাসান নাওয়াজ ও মিনহাস। নাওয়াজের ৭৪ রানের জুটির পর মিনহাস ও ফাহিম আশরাফ যোগ করেন আরো ৭২ রান।
নাওয়াজ ৭৯ বলে ৭৪ রান করেন। ফাহিমের ব্যাট থেকে আসে ২৬ বলে ৩৯ রান। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৩০২ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
রান তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। বেন ডাকেট ও টম ব্যান্টনের উদ্বোধনী জুটিতে ১০ ওভারে আসে ৬৫ রান। ৪৬ বলে ৪৫ রান করে ডাকেট ফিরলেও ব্যান্টন ফিফটি তুলে নেন ৪৬ বলে।
কিন্তু ১৯তম ওভারে মিনহাস বোলিংয়ে আসতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। নিজের প্রথম দুই ওভারেই দুই উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ভিত নাড়িয়ে দেন তিনি। তার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্যান্টন, এরপর স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হন হ্যারি ব্রুক।
জো রুট ও স্যাম কারান মিলে দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন। দুজনের ৩৭ রানের জুটি ভাঙার পর আর দাঁড়াতে পারেনি ইংল্যান্ড। রুটকে (৩৩) বোল্ড করেন নাসিম শাহ, কারানকে (২৭) ফেরান হারিস রউফ।
এরপর পুরো ম্যাচটাই যেন মিনহাসের। জর্ডান কক্সকে (১৮) এলবিডব্লিউ, জেমি ওভারটনকে (১) ক্যাচে ফেরানোর পর একই ওভারে উইল জ্যাকস (১৯) ও আদিল রশিদকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি।
হ্যাটট্রিক না হলেও পরের বলেই সরাসরি থ্রোয়ে গাস অ্যাটকিনসনকে রানআউট করে ইংল্যান্ডের ইনিংসের ইতি টানেন মিনহাস। ৩৮.৪ ওভারে ২১৫ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। পাঁচ উইকেট নেয়া মিনহাসই হন ম্যাচসেরা।
ত্রিদেশীয় সিরিজে এটি পাকিস্তানের টানা দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়েছিল শাহিন শাহ আফ্রিদির দল।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








